আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে নবজাতকসহ ৩ লাশ উদ্ধার
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি তালাবদ্ধ ভাড়া বাসা থেকে নবজাতকসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাতে মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর চারতলা বাড়ির…
নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যে সুড়ঙ্গ থেকে শুক্রবার দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে আর কেউ বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত হয়েছেন উদ্ধারকারীরা। সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও কাউকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। ফলে ওই সুড়ঙ্গে উদ্ধার অভিযান শেষ করে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নেপালের সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর (এপিএফ) সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করে। দলটির নেতৃত্ব দেন হেড কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাং। উদ্ধারকাজে নেপালি সেনাবাহিনীর একটি দলও অংশ নেয়।
এপিএফ সদস্য অম্বর মাহাত সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে জানান, পুরো প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ কাদা ও মাটিতে চাপা পড়ে গেছে। কোথাও কোথাও পাথরও জমে রয়েছে। উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভেতরে হামাগুড়ি দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট এগিয়ে তল্লাশি চালান। কিন্তু যেখানেই তারা খুঁজেছেন, সেখানেই কেবল কাদা ও মাটি দেখতে পেয়েছেন।
উদ্ধারকারীরা আরও জানান, আকস্মিক বানের পানির প্রবল চাপে সুড়ঙ্গের ওপরের স্ল্যাবও ধসে পড়েছে। ফলে সুড়ঙ্গের ভেতরের অনেক অংশ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং সেখানে আটকে থাকা অন্য শ্রমিকদের জীবিত পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
গত ২৬ আগস্ট বুধবার সকালে নেপালের ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। ওই সময় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছিল। এসব প্রকল্পে মাটির নিচে পাওয়ারহাউস নির্মাণের জন্য সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছিল। আকস্মিক বন্যায় সবকটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিভিন্ন নেপালি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুধু এসব সুড়ঙ্গেই প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ হন। এরপর থেকে নেপালি সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা কাদা ও মাটির স্তূপ সরিয়ে নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আসছিলেন।
এর মধ্যে ত্রিশূলীর ওই সুড়ঙ্গ থেকে নয় দিন পর শুক্রবার সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজন নামে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। একই সুড়ঙ্গ থেকে আরও এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। দুই শ্রমিককে উদ্ধারের সময় সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে আরও মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছিল।
তবে পরে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত গিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালান। সেখানে আর কোনো শ্রমিকের সন্ধান না পাওয়ায় নিশ্চিত হওয়া যায়, সুড়ঙ্গের ভেতরে আর কেউ নেই।
উদ্ধার হওয়ার পর সঞ্জয় শাহকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, বন্যার পানি আসার খবর পেয়ে অন্য শ্রমিকদের সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছিলেন। এতে তারও বের হতে দেরি হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি সুড়ঙ্গের ভেতরেই আটকা পড়েন। নয় দিন সেখানে অবস্থানকালে তিনি মন্ত্র জপ ও ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন। এতদিন পর জীবিত বের হতে পারবেন, সেটি তিনি নিজেও ভাবেননি বলে জানান।
এদিকে শুক্রবার পর্যন্ত নেপালে আকস্মিক বন্যা ও হড়পা বানে ১ হাজার ২৮৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au