উত্তরার হোটেলকক্ষে চীনা নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর উত্তরার একটি হোটেলকক্ষ থেকে লি শিংচিয়াং নামে এক চীনা নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উত্তরার…
চলতি সপ্তাহে উত্তর আমেরিকা থেকে ৮৬ টন সোনা সরিয়ে লন্ডনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে স্থানান্তর করেছে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে গুরুতর কোনো সংকট দেখা দিলে যাতে সোনার মজুদ দ্রুত ও সহজে ব্যবহার করা যায়, সে লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সোনার মজুদ স্থানান্তরের মাধ্যমে তারা সম্ভাব্য গুরুতর সংকট মোকাবিলায় নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত রাখতে চায়। তবে এই সিদ্ধান্তের পর ইউরোপের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের সোনার মজুদ নিয়ে নতুন করে ভাবছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য যুদ্ধ, সামরিক সংঘাত এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে বিভিন্ন দেশ তাদের সোনার মজুদ নিজেদের দেশ বা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও সহজে ব্যবহারযোগ্য স্থানে রাখার উদ্যোগ নিচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে ফ্রান্সও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের সোনার মজুদের একটি অংশ দেশে ফিরিয়ে আনার কথা জানিয়েছিল।
এর আগে জার্মানিও বিদেশে থাকা বিপুল পরিমাণ সোনা দেশে ফিরিয়ে নেয়। ২০১৬ সাল পর্যন্ত কয়েক বছর ধরে জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্দেসব্যাংক বিদেশি ভল্ট থেকে ২১৬ টনের বেশি সোনা নিজস্ব হেফাজতে নিয়ে আসে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক থেকে ১১১ টন এবং প্যারিস থেকে ১০৫ টন সোনা জার্মানিতে ফেরত নেওয়া হয়।
তবে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনার মজুদ স্থানান্তর নতুন কোনো ঘটনা নয়। গোল্ডম্যান স্যাকসের গবেষণা বিশ্লেষক লিনা থমাস ও ড্যান স্ট্রাইভেন বিবিসিকে জানান, স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও ইউরোপের কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের গচ্ছিত সোনার একটি অংশ নিউইয়র্কে সরিয়ে নিয়েছিল।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সিনিয়র মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট জোসেফ কাভাতোনির মতে, যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা ইউরোপের দেশগুলোর এমন সিদ্ধান্তের পেছনে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু এসব কারণেই সোনা সরানো হচ্ছে, এমনটা মনে করেন না তিনি। মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার এবং সংকটের সময় দ্রুত সোনা কেনাবেচা বা লেনদেনের সুবিধা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কাভাতোনি বলেন, সামনে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় আসছে বলে তিনি মনে করেন না। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন তাদের সঞ্চিত সম্পদের ব্যবস্থাপনা, মজুদ বাড়ানো এবং সংকটের সময় কীভাবে এসব সম্পদ সবচেয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড পরিমাণ সোনা কেনায় এই বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে দেশের ভেতরে বিপুল পরিমাণ সোনা সংরক্ষণ করাও ব্যয়বহুল। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক লিনা থমাস ও ড্যান স্ট্রাইভেন জানান, নিজ দেশে সোনা রাখার জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা, নিয়মিত অডিটের অবকাঠামো এবং বীমা সুরক্ষায় বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়।
বিশেষ করে তুলনামূলকভাবে ছোট কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য এসব অতিরিক্ত খরচের কারণ হতে পারে। ফলে নিরাপত্তা, খরচ এবং সংকটের সময় দ্রুত ব্যবহারের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের সোনার মজুদ কোথায় রাখা হবে, সে বিষয়ে নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au