আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে রাশেদ খাঁনের নানা অভিযোগ
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাবেক সংসদ সদস্যদের ‘প্রটেকশন’ ও পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব…
বহুল আলোচিত ইসলামি বক্তা ডা. জাকির নায়েককে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে দেশটির সঙ্গে মালয়েশিয়ার উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। সেখানে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে তিনি এসব তথ্য জানান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের সময় জাকির নায়েককে ভারতের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এ নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত আলোচনা করতে চায় না মালয়েশিয়া। আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব এবং আলোচনার গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা হচ্ছে না। একই সঙ্গে ভারত ও মালয়েশিয়ার পারস্পরিক আস্থা আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
জাকির নায়েককে ভারতের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান মালয়েশিয়া বুঝতে পারছে বলেও জানান আনোয়ার ইব্রাহিম। তবে তাঁর মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, জাকির নায়েকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় মালয়েশিয়াকে একদিকে নিজেদের আইনের শাসন ও আইনি প্রক্রিয়া বজায় রাখতে হবে, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। ফলে সব দিক পর্যালোচনা করেই তাঁর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
২০১৬ সালে ভারত ছেড়ে মালয়েশিয়ায় চলে যান জাকির নায়েক। পরে তিনি দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা স্থায়ী রেসিডেন্সি লাভ করেন। এরপর ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য মালয়েশিয়ার কাছে আবেদন জানায়। তবে এ বিষয়ে মালয়েশিয়া প্রয়োজনীয় ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণের গুরুত্বের কথা বলে আসছে।
জাকির নায়েককে ঘিরে মালয়েশিয়াতেও বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালে দেশটির সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরে ওই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে বিষয়টির সমাধান করেন জাকির নায়েক।
ভারতের সঙ্গে মালয়েশিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাকির নায়েকের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে রয়েছে। এবার নরেন্দ্র মোদি ও আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকে বিষয়টি সরাসরি আলোচনায় আসায় এটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে জাকির নায়েককে শেষ পর্যন্ত ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি মূলত দেশটির আইনি প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ এবং ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক বিবেচনার ওপর নির্ভর করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এসব বিষয়ই গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করবে মালয়েশিয়া।
সূত্র: এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au