রুশ ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা ইউরোপীয় নেতারা
ইউক্রেনের পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ ইউরোপের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি। হামলার মাত্র কয়েক মিনিট…
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুনভাবে সাজাতে চায় বাংলাদেশ। পারস্পরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে বাংলাদেশের জন্য ‘অস্বস্তিকর’ বলেও মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
রোববার(১৩সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করতে চায়। তবে এই সম্পর্ক নতুনভাবে এগিয়ে নিতে বহুপক্ষীয় কোনো ফোরামের পরিবর্তে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকেই গুরুত্ব দিতে চায় ঢাকা।
তিনি বলেন, “আমরা একটি নতুন সম্পর্কের দিকে এগোতে চাই, যা বহুপক্ষীয় ফোরামের মাধ্যমে নয়, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত।”
হুমায়ুন কবিরের এই মন্তব্যের দুই দিন আগে বাংলাদেশ জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবেন না। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বঙ্গোপসাগরীয় বহুখাতভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ বা বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
ভারতের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ব্রিকস সম্মেলন রোববার শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ভারত আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। পাশাপাশি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই তার জন্য আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও ছিল।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ হিসেবে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থানের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে তরুণদের নেতৃত্বে আন্দোলনের পর ক্ষমতা ছাড়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান এবং এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারসাম্যপূর্ণভাবে দেখতে হবে এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বৃহত্তর কাঠামোর অংশ হিসেবে বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আমাদের ভারত নিয়ে অতিরিক্ত আকর্ষণ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভারত অন্য দেশগুলোর মতোই একটি দেশ এবং বাংলাদেশের তার সঙ্গে ভালো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক থাকা উচিত।”
এ প্রসঙ্গে তিনি রসিকতার সুরে বলেন, “ভারতে নাশতা, ভারতে দুপুরের খাবার, ভারতে রাতের খাবার, তাহলে নিজের খাবার খাবেন কখন?”
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবস্থান করবেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় এ ধরনের বৈঠক অনেক ক্ষেত্রেই শেষ মুহূর্তে নির্ধারিত হয়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল লক্ষ্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়া। পার্শ্ববৈঠকগুলোর বিস্তারিত সময়মতো জানা যাবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে বিবেচনা করলেও সম্পর্ককে এখন পারস্পরিক স্বার্থ, ভারসাম্য ও সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে নতুন করে সাজাতে চায় ঢাকা।
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au