হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত
ইরান, ইরাক ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অংশগ্রহণে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানে নির্ধারিত আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার ওমানের সালালাহ শহরে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা…
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন থাকলেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে দরজা খোলা রাখছে ভারত। সম্পর্কের রাজনৈতিক জটিলতার পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশের বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার বিষয়টিকে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখলেও ভারতীয় পক্ষ জনগণের স্বার্থ ও দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে সফরটি আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা এখনো চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারেক রহমানকে ভারত থেকে দুটি আমন্ত্রণও দেওয়া হয়েছিল। এর একটি ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ। অন্যটি ছিল ব্রিকস সম্মেলনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ। তবে তারেক রহমান নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেননি।
ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী এর আগে একাধিকবার বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনীতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা ও পারস্পরিক যোগাযোগকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ অবস্থান থেকেই বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা এবং তথ্য ও সম্প্রচার ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ড. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন দিনেশ ত্রিবেদী।
বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ভারতের হাইকমিশন জানায়, দুই দেশের ‘প্রাণবন্ত গণতন্ত্র’ হিসেবে পারস্পরিক জনগণ-সংযোগ আরও জোরদার করতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে জাহেদ উর রহমানের ভারত সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। দিল্লির বিমানবন্দরে নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে তিনি ভারতে প্রবেশ না করেই দেশে ফিরে আসেন। এ ঘটনায় ভারত জানিয়েছিল, জাহেদ উর রহমান ব্যক্তিগত পাসপোর্টে ভারতে এসেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ভালো করতে চায়। পারস্পরিক গুরুত্ব ও সম্মানের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পানি বণ্টন। এ বিষয়েও ঢাকায় বৈঠক করেছেন ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী।
১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী আনীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদও উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের জনগণের অভিন্ন স্বার্থ ও প্রত্যাশা পূরণে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির নবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে আলোচনা চলছে।
ভারতে গঙ্গা নদী বাংলাদেশে প্রবেশের পর পদ্মা নামে পরিচিত। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ দিয়ে প্রবেশ করা এই নদী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী ব্যবস্থা। ভারত থেকে উৎপত্তি বা প্রবাহিত ৫৪টি আন্তসীমান্ত নদীর মধ্যে গঙ্গা অন্যতম।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কায় অবস্থিত ফারাক্কা বাঁধ গঙ্গার পানি হুগলি নদীতে প্রবাহিত করার জন্য নির্মিত হয়েছিল। কলকাতা বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখার পাশাপাশি পলি অপসারণের উদ্দেশ্যেও বাঁধটি ব্যবহৃত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়নকে বাংলাদেশ বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে শেখ হাসিনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও বাণিজ্য, যোগাযোগ, পানি বণ্টন ও জনগণের মধ্যে সম্পর্কসহ বিভিন্ন বাস্তব ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।
সুত্রঃএনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au