গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে নিহত ২০, নিখোঁজ অনেকে
গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলায় আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত একটি ছয়তলা আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও…
আরব সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় পাকিস্তানের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত। এ ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও পাকিস্তানি নৌযানের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার’ বলে উল্লেখ করেছে নয়াদিল্লি।
বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) জানায়, এ ঘটনার পর নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে (সিডিএ) তলব করা হয়। তাঁকে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভারতের প্রতিবাদের কথা জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রে নৌবাহিনীসহ অন্যান্য সামরিক ইউনিটকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন এবং দুই দেশের মধ্যে প্রযোজ্য চুক্তিগুলো মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, আরব সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ওই সংঘর্ষে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানি নৌ ইউনিটের আচরণকে অগ্রহণযোগ্য ও পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হিসেবে দেখছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক মহড়া, কৌশলগত তৎপরতা এবং সেনা চলাচল সম্পর্কে আগাম নোটিশ দেওয়ার বিষয়ে ১৯৯১ সালের এপ্রিলে স্বাক্ষরিত চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন।
১৯৯১ সালের ওই চুক্তির আওতায় দুই দেশের সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধান ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অনুসরণের কথা রয়েছে। ভারতের অভিযোগ, আরব সাগরে সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই চুক্তিতে নির্ধারিত ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ ঘটনায় পাকিস্তানের ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করে একই ধরনের প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দুই দেশের সামরিক ইউনিটগুলোকে সমুদ্রে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিবিধান ও চুক্তির সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো যথাযথভাবে মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘাত এড়াতে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও চুক্তি রয়েছে। সমুদ্রপথে সামরিক ইউনিটগুলোর চলাচলের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা ও সতর্কতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের নৌযানের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানাল।
তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট সময়, ভারতীয় ও পাকিস্তানি নৌযানের নাম, সংঘর্ষের কারণ এবং দুই নৌযানের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়নি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও এ প্রতিবাদ ও সংঘর্ষের বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
নয়াদিল্লির বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও সমুদ্রে সামরিক ইউনিটের চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিধান মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত একই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার বিষয়ে পাকিস্তানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও ব্যবস্থা প্রত্যাশা করেছে।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au