বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি
বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে নারী মালিকানাধীন এজেন্ট ও নারীদের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট এজেন্টের ১১ দশমিক ৫ শতাংশের মালিক নারী। একই সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিচালিত মোট আমানত হিসাবের ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারীদের।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এজেন্ট ব্যাংকিং পরিসংখ্যান, এপ্রিল-জুন ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুন শেষে নারী মালিকানাধীন এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭৫টিতে। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের জুনে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৩৪টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নারী মালিকানাধীন এজেন্ট বেড়েছে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
গ্রামাঞ্চলে নারী মালিকানাধীন এজেন্ট বৃদ্ধির হার ছিল আরও বেশি। এক বছরে গ্রামাঞ্চলে এ ধরনের এজেন্ট ২৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে বেড়েছে ১৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবেদনে বলেছে, এ প্রবৃদ্ধি বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে শহরাঞ্চলেও নারীদের অংশগ্রহণ দ্রুত বাড়ছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নারীদের আমানত হিসাবের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৬ সালের জুনে নারী গ্রাহকদের আমানত হিসাব এক বছর আগের তুলনায় ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলে প্রবৃদ্ধির হার বেশি ছিল।
নারীদের ঋণ হিসাবও বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে নারী গ্রাহকদের ঋণ হিসাবের সংখ্যা ৬ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ক্ষেত্রেও গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেশি ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, সামগ্রিকভাবে এসব তথ্য শহর ও গ্রাম উভয় এলাকার নারীদের জন্য ব্যাংকিং ও আর্থিক সুযোগ বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে নারীদের অংশগ্রহণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
তবে নারীদের এজেন্ট মালিকানার হার বাড়লেও তা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। ২০২৫ সালের ৮ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের জারি করা এক সার্কুলার অনুযায়ী, মোট এজেন্টের ৫০ শতাংশ নারীর মালিকানাধীন হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিন্তু ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের মোট এজেন্টের মাত্র ১১ দশমিক ৫ শতাংশের মালিক ছিলেন নারী। অবশ্য মার্চে এ হার ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে নারী মালিকানাধীন এজেন্টের অংশ কিছুটা বেড়েছে।
২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৩০টি তফসিলি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা পরিচালনা করছিল। দেশের বিভিন্ন স্থানে হাজারো আউটলেটের মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া হচ্ছে, যার অধিকাংশই গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এজেন্ট ব্যাংকিং বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রচলিত ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা এবং ব্যাংক হিসাব নেই এমন মানুষদের কাছে, বিশেষত গ্রামাঞ্চলে, ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে এ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
২০২৬ সালের জুনে সারা দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রতিটি আউটলেটের বিপরীতে গড়ে ৮ হাজার ৪৮৭ জন মানুষ সেবা পেয়েছেন। বিপরীতে, একটি প্রচলিত ব্যাংক শাখার বিপরীতে গড়ে সেবা পেয়েছেন ১৫ হাজার ১৩২ জন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সাফল্য কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, এজেন্টদের দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল সাক্ষরতার ঘাটতি ও এজেন্টদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম টেকসই রাখার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর নির্ভর করছে।