ময়মনসিংহে ড্রামের ভেতর থেকে হিন্দু স্বর্ণকারের মরদেহ উদ্ধার
ময়মনসিংহে পানিতে ভাসতে থাকা একটি ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর (৫০)। তিনি একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের…
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে ঘিরে মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের অভিযোগের মধ্যে জাহাজটির পুরো স্ট্রাইক গ্রুপে আটজন সেনাসদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে স্বীকার করেছে মার্কিন প্রশাসন। বিষয়টি উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত নৌমন্ত্রী হাং কাওয়ের একটি চিঠিতে।
ডেমোক্রেটিক সিনেটর কারস্টেন গিলিব্র্যান্ডের প্রশ্নের জবাবে হাং কাও ওই চিঠি দেন। এএফপির হাতে আসা চিঠিতে বলা হয়েছে, আব্রাহাম লিংকনকে ঘিরে গঠিত স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েনের পর থেকে মোট আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। তবে ওই মোতায়েনের সময় আত্মহত্যা করে কোনো নাবিক বা মেরিনের মৃত্যু হয়নি।
চিঠিতে আত্মহত্যার চেষ্টার দুটি ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও দেওয়া হয়েছে। এর একটি ঘটে গত আগস্টের শুরুতে। রণতরির বিমান শাখায় দায়িত্ব পালন করা এক নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে পড়ে যান। দ্রুত তাকে শনাক্ত করে একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এর আগে গত মার্চে আরেক নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর সহকর্মীরা সময়মতো তাকে থামিয়ে দেন। পরে তাকে নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার মধ্যে বাকি ঘটনাগুলোর বিস্তারিত চিঠিতে প্রকাশ করা হয়নি। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, দীর্ঘ মোতায়েনের মধ্যে কিছু নাবিকের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও গত আগস্টে বলেছিলেন, মোতায়েনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও নাবিক ও মেরিনদের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
২৮৬ দিন সমুদ্রে
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েনের সময়কালই মূলত জাহাজটির নাবিকদের জীবনযাপন ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রণতরিটি ২০২৫ সালের নভেম্বরে মোতায়েন শুরু করে এবং থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত ২৮৬ দিন সমুদ্রে ছিল। এটিই ছিল ওই মোতায়েনের শুরু থেকে জাহাজটির প্রথম পূর্ণাঙ্গ বন্দর-যাত্রা।
প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন নিয়ে রণতরিটি প্রথমে দক্ষিণ চীন সাগরের দিকে যাত্রা করেছিল। পরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, স্ট্রাইক গ্রুপটি প্রায় সাত মাস যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর রণতরিটি থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছায়। প্রায় নয় মাসের সমুদ্রযাত্রার পর সেখানে নাবিকদের জন্য পাঁচ দিনের বিরতির ব্যবস্থা করা হয়। ৬ সেপ্টেম্বর রণতরিটি থাইল্যান্ড ছেড়ে যায়।
খাবার ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও অভিযোগ
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার পাশাপাশি রণতরিটির জীবনযাপন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে খাবারের ঘাটতি, অবকাঠামোগত সমস্যা এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে আসে। ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতারাও পরিস্থিতি তদন্তের দাবি জানান।
বিশেষ করে জাহাজে দীর্ঘ সময় অবস্থানের কারণে নাবিকদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এএফপি জানিয়েছে, অন্তত দুজন নাবিক সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে আগে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। পরে হাং কাওয়ের চিঠিতে পুরো স্ট্রাইক গ্রুপে মোট আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার তথ্য প্রকাশ পায়।
তবে এসব অভিযোগের সবগুলোকে মার্কিন প্রশাসন একইভাবে স্বীকার করেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রণতরিটির পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত উদ্বেগকে খাটো করে দেখেছিলেন। হাং কাওও আগস্টে বলেছিলেন, মোতায়েনের সময় কিছু মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঘটনা চিকিৎসার আওতায় এসেছিল, তবে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েন ছিল নির্ধারিত ঘূর্ণন ব্যবস্থার অংশ এবং মিশনের প্রয়োজনেই এর সময়কাল বাড়ানো হয়েছিল। হাং কাওয়ের ১৪ আগস্টের বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধকালীন অভিযানে নিয়মিত রুটিন ও পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক এবং নাবিক ও মেরিনদের নিরাপত্তা নৌবাহিনীর অগ্রাধিকার।
আটজনের আত্মহত্যার চেষ্টার তথ্য প্রকাশের পর এখন দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা মার্কিন নৌসদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য, কর্মপরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার কোনোটিতেই আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু ঘটেনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au