ভারতের বিপক্ষে রাফিনহাকে পাচ্ছে না ব্রাজিল
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জয় পেলেও ব্রাজিল শিবিরে এসেছে দুশ্চিন্তার খবর। ডান ঊরুর পেশিতে অস্বস্তির কারণে ভারতের বিপক্ষে পরবর্তী প্রীতি ম্যাচে খেলতে পারবেন না দলের…
ব্রেক্সিটের প্রায় এক দশক পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নতুন করে পর্যালোচনার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। ইইউর সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক বজায় রাখা, কাস্টমস ইউনিয়নে যুক্ত হওয়া, একক বাজারে ফিরে যাওয়া কিংবা শেষ পর্যন্ত পূর্ণ সদস্য হিসেবে ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়া, সব বিকল্পই বিবেচনায় রাখার কথা বলেছেন তিনি।
বুধবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্নহাম বলেন, ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। কোন ব্যবস্থাটি বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব এবং প্রতিটি বিকল্পের কী সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে, সেগুলো বিবেচনা করেই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে জানান তিনি।
বার্নহামের আলোচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্তমান ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্যবস্থা বহাল রাখা। এ ছাড়া সাবেক কনজারভেটিভ অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবর্নের প্রস্তাবিত কাস্টমস ইউনিয়নে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাজ্যকে ইইউর একক বাজারে পুনরায় যুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছে। আরেকটি বিকল্প হিসেবে পুরোপুরি ইইউতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাও উল্লেখ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
বার্নহাম বলেন, প্রতিটি পথ কীভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যবস্থার সুবিধা ও অসুবিধাও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অর্থাৎ, তাৎক্ষণিকভাবে ইইউতে ফেরার সিদ্ধান্তের বদলে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের সম্ভাব্য কাঠামোগুলো নিয়ে পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বরও বার্নহাম ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাকে সরাসরি নাকচ করেননি। সে সময় তিনি বিষয়টিকে ‘আরেক দিনের প্রশ্ন’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন এবং তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হিসেবে ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের কথা বলেছিলেন।
২০১৬ সালের গণভোটে যুক্তরাজ্যের ভোটাররা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দেন। এরপর কয়েক বছরের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে দেশটি ইইউ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যায়। ব্রেক্সিটের পর বাণিজ্য, সীমান্ত, অভিবাসন ও ইউরোপের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যে নতুন কাঠামো তৈরি হয়।
বার্নহাম সাম্প্রতিক বক্তব্যে ব্রেক্সিট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনামূলক মতও প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের জন্য লাভের তুলনায় বেশি ক্ষতি করেছে এবং এখন প্রশ্ন হলো, ভবিষ্যতে দেশটি এই পরিস্থিতি থেকে কীভাবে এগিয়ে যাবে।
আগামী নভেম্বরের যুক্তরাজ্য-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে ইউরোপের সঙ্গে ব্রিটেনের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের সম্ভাব্য বিভিন্ন পথ তুলে ধরার কথা জানিয়েছেন বার্নহাম। সেখানে বর্তমান ব্যবস্থার বাইরে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়া এখনই যুক্তরাজ্য সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পথগুলোর একটি হিসেবে আলোচনায় এসেছে। পূর্ণ সদস্যপদে ফিরতে হলে যুক্তরাজ্যকে ইইউর সঙ্গে নতুন করে আলোচনা করতে হবে এবং এর জন্য দেশটির অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন হবে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ইইউ সম্পর্ক নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে একদিকে ইইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে ব্রেক্সিটের পর তৈরি হওয়া কাঠামো পুরোপুরি পরিবর্তনের বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au