বিশ্ব

ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজ ভূপাতিত করতে প্রস্তুত ছিল ইসরায়েল

  • 4:58 pm - October 07, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১২১ বার
ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজ ভূপাতিত করতে প্রস্তুত ছিল ইসরায়েল। ছবিঃ সংগৃহীত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা এবং সেটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার ঘটনায় উড়োজাহাজটিকে আকাশেই ভূপাতিত করার জন্য প্রস্তুত হয়েছিল ইসরায়েল। উড়োজাহাজটিতে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ও কর্মী ছিলেন, যাদের বেশির ভাগই ইসরায়েলি নাগরিক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাই থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটটি ১০৭৩ একপর্যায়ে অল্প সময়ের জন্য জর্দানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। তখন উড়োজাহাজটির সহকারী পাইলট ওমানের নাগরিক হামাম আল-হামামি ককপিটে গিয়ে মূল পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এবং সেটিকে ভূপাতিত করার চেষ্টা করেন।

ঘটনার সময় উড়োজাহাজটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। এতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মধ্যে জরুরি সতর্কতা জারি হয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও পরে ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত হন।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে কোনো সাড়া না পাওয়ার পর ইসরায়েল আগে থেকেই নির্ধারিত জরুরি ব্যবস্থা সক্রিয় করে। একটি বিশেষ কমিটি দ্রুত বৈঠকে বসে এবং একটি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠানো হয় এবং দেশটির আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে উড়োজাহাজটিকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানোর আগেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে, সেটি ইসরায়েলের আকাশসীমার দিকে না গিয়ে সৌদি আরবের দিকে ঘুরে গেছে। একই সময়ে সৌদি আরবও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিজেদের যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়।

এরপর উড়োজাহাজটির সঙ্গে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ততক্ষণে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার হামাম আল-হামামিকে প্রতিহত করতে সক্ষম হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কিছু সময়ের জন্য হামলাকারীকে ঠেকিয়ে ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। পরে উড়োজাহাজে থাকা কয়েকজন ইসরায়েলি যাত্রী ও ফ্লাইদুবাইয়ের কর্মীরা হামাম আল-হামামিকে কাবু করেন।

এ সময় দায়িত্বে না থাকা আরও দুজন পাইলট উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে তারা উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক শহরে জরুরি অবতরণ করান। সেখানে হামাম আল-হামামিকে আটক করা হয় এবং বর্তমানে তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সিবিএস নিউজকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের আগে থেকেই এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু ছিল। কোনো যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ইসরায়েলের দিকে এগিয়ে আসার সময় নিয়ন্ত্রণ হারালে এবং মাটিতে থাকা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র উড়োজাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হলে যুদ্ধবিমান পাঠানোর ব্যবস্থা ছিল।

যুদ্ধবিমানগুলো উড়োজাহাজটির যতটা সম্ভব কাছে গিয়ে ককপিটের ভেতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করত। একই সঙ্গে পাইলটের সঙ্গে চোখের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা এবং কেবিনের যাত্রীদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হতো। যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা গেলে যুদ্ধবিমানের পাইলটরা তা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট কমিটিকে জানাতেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজটি সত্যিই ছিনতাই হয়েছে এবং ছিনতাইকারীরা বেতারে কোনো যোগাযোগ করছে না বা কোনো দাবি জানাচ্ছে না বলে নিশ্চিত হওয়া গেলে বিষয়টি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হতো। এরপর উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।

ইসরায়েলের এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিয়ন্ত্রণহীন কোনো যাত্রীবাহী উড়োজাহাজকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত করা থেকে ঠেকানো। দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, এমন একটি উড়োজাহাজ ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ ভবন, বিমানবন্দর বা অন্য কোনো স্থাপনায় আঘাত করলে ব্যাপক প্রাণহানি হতে পারে। সে কারণে উড়োজাহাজটিকে আকাশেই ভূপাতিত করাকে তুলনামূলক কম ক্ষতির সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

এদিকে হামাম আল-হামামি তদন্তকারীদের কাছে হামলার বিষয়ে কিছু তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার দাবি অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল প্রথমে পাইলটকে হত্যা করা, এরপর উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং মাটি থেকে উড়োজাহাজ চালানোর অনুমতি নিয়ে সেটিকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ভূপাতিত করা।

সিবিএস নিউজের সূত্রগুলো বলেছে, ঘটনাটি সম্ভবত একজনের পরিকল্পনায় পরিচালিত হামলা ছিল। তবে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামাম আল-হামামি ফ্লাইদুবাইয়ে প্রায় আট মাস কাজ করেছিলেন। এর আগে তিনি ওমান এয়ারে প্রায় সাত বছর কর্মরত ছিলেন এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই প্রতিষ্ঠান ছাড়েন বলে একটি পরে মুছে ফেলা পেশাগত পরিচিতি পাতার তথ্য থেকে জানা গেছে। ঘটনাটির তদন্ত এখনো চলছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িত সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

সুত্রঃ এনডিটিভি

এই শাখার আরও খবর

মেসিই কি হবেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট?

ফুটবল মাঠের বর্ণিল ক্যারিয়ারের ইতি টেনে সদ্যই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। তবে মাঠ ছাড়ার পরপরই তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন এক…

হানিট্র্যাপের সন্দেহে ভারতের ১৩ নৌসেনা সদস্য নজরদারিতে

পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট একটি সন্দেহভাজন গুপ্তচর চক্রের সন্ধান পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বড় ধরনের কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স অভিযান শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ভারতীয় নৌবাহিনীর ১৩ সদস্যসহ মোট ১৮…

গ্রামীণ ব্যাংকে অডিট চলাকালে ম্যানেজারের ‘আত্মহত্যা’, কর্মীদের বিক্ষোভ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছী শাখায় অডিট চলাকালে শাখা ব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালামের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কীটনাশকযুক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের পর গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে…

মবের শিকার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, তদন্তে আসছে জাতিসংঘ

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মবের শিকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তদন্ত করতে আগামী মাসে বাংলাদেশে আসছেন জাতিসংঘের শিক্ষা অধিকারবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার…

প্লেগ গবেষণাগারে ল্যাবকর্মীর মৃত্যু, স্পষ্ট তথ্য চায় ডব্লিউএইচও

রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় প্লেগ গবেষণাগারে ২৮ বছর বয়সী এক ল্যাব সহকারীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দারিয়া শিপিলোভা নামের ওই কর্মী গত ২ অক্টোবর তীব্র…

মেসির বিদায়ে নেইমারের আবেগঘন বার্তা

লিওনেল মেসির সঙ্গে নেইমার জুনিয়রের সম্পর্কটা শুধু মাঠের সতীর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাদের বন্ধুত্বও ফুটবলবিশ্বে বেশ আলোচিত। বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলার সময় গড়ে উঠেছিল তাদের দারুণ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au