ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দেশত্যাগের দিকে নিয়ে যাওয়া ঘটনাবলি নিয়ে নিজের বক্তব্যের ধরন পরিবর্তন করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া ‘খারাপ কোনো ধারণা নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর এ মন্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া খারাপ কোনো ধারণা নয়। বরং এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা ভালো হবে।
তিনি বলেন, ‘মাঝখানে কেউ যদি সমঝোতা চান এবং এটিকে ভালো উদ্যোগ মনে করেন, তাহলে আমিও মনে করি এটি ভালো ধারণা।’
তবে ‘মাঝখানে’ বলতে তিনি কাদের বোঝাচ্ছেন, তা স্পষ্ট করেননি জাহেদ। পরে তিনি বলেন, যারা মধ্যস্থতা করতে চান, তাদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করতে হবে। সেটি নিশ্চিত করা গেলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
ঢাকার বৈঠকের পর যা বললেন জিন্দাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
জাহেদের বক্তব্যের বিষয়ে ভারতীয় জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শ্রীৰাধা দত্তও একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন। বুধবার রাতে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক শেষে দিল্লি ফেরার পর তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
স্ট্র্যাটনিউজ গ্লোবালকে শ্রীৰাধা দত্ত বলেন, ঢাকায় যাদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন, তাদের অনেকেই জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা তাঁর কর্মকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করে অনুতপ্ত হলে তাঁর সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে তারা আগ্রহী।
তিনি বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিষয়টি নিয়ে গুরুতর আপত্তি রাখলেও তারাও এই অবস্থানের সঙ্গে একমত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, এনসিপি সবচেয়ে কঠোর অবস্থানে থাকা দল হলেও তারাও শর্তসাপেক্ষ সমঝোতার বিষয়ে একই অবস্থান দেখিয়েছে।
তবে এবারের সফরে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়নি বলে জানান শ্রীৰাধা দত্ত।
জামায়াতের কর্মসূচি ঘিরে নতুন সমীকরণ?
প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের রাজনীতি পর্যবেক্ষক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক দীপ হালদারের একটি বিশ্লেষণও তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে বিএনপির অবস্থানের পরিবর্তনের পেছনে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়টি কাজ করতে পারে।
দীপ হালদারের মতে, আওয়ামী লীগের সারা দেশে উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক উপস্থিতি ও নিবেদিত কর্মী-সমর্থক রয়েছে। বিএনপির সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সমঝোতা হলে তা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সহায়তা হতে পারে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলের একটি জোট আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকায় ‘লং মার্চ’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। সংবিধান সংস্কার, জুলাইয়ের গণহত্যায় জড়িতদের বিচারসহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের চাপ তৈরির লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশে ফিরতে পারেন শেখ হাসিনা?
দীপ হালদার আরও মনে করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা হলে তার অংশ হিসেবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টিও সামনে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে বিএনপির প্রয়াত নেত্রী খালেদা জিয়ার মতো গৃহবন্দী রাখার ব্যবস্থা করা হতে পারে বলেও তিনি ধারণা দিয়েছেন।
তবে এটি প্রতিবেদনের একটি বিশ্লেষণ, কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা চুক্তির ঘোষণা নয়।
উল্লেখ্য, গত আগস্টে দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় ফেরার ইচ্ছা পোষণ করছেন। পরে আরও একবার দেশে ফেরার কথা বললেও নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি।
শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যের পর ঢাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরবর্তী রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনার বিষয়ে সেটিই হয়তো প্রথম কোনো ইঙ্গিত ছিল।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে সমঝোতার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না বা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।