ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা
হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…
রোববার (১১ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর এই উদ্বেগ জানিয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের আটক এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংস্থাটির মুখপাত্র থামিন আল-খিতান এক বিবৃতিতে মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়া এবং নিজেদের দাবি তুলে ধরার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে হলে তা অবশ্যই প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতার কঠোর মানদণ্ড মেনে করতে হবে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর আরও জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকারকে অযৌক্তিকভাবে সীমিত করে।
সংস্থাটির বিবৃতিতে ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারসংক্রান্ত অঙ্গীকারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে তা দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।
বিশেষ করে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নাগরিক সমাজের সদস্য, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের আটকের খবরকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশগ্রহণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কাউকে নির্বিচারে আটক করা হলে তা মানবাধিকারের প্রশ্ন তৈরি করে বলে বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যাঁদের আটকের যথাযথ আইনি ভিত্তি নেই, তাঁদের দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে চলমান উত্তেজনা নিরসনে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপের ওপর নির্ভর না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘ।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা যেসব দাবি ও উদ্বেগের বিষয় সামনে এনেছেন, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অর্থবহ ও গঠনমূলক সংলাপে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, শান্তিপূর্ণ আলোচনা এবং নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান জানানোর মাধ্যমে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষার মধ্যে যথাযথ ভারসাম্য নিশ্চিত করাও জরুরি।
দিল্লির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে জাতিসংঘের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা অনুসরণের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে।
তবে জাতিসংঘের বিবৃতি ও আটকের ঘটনাসংক্রান্ত তথ্যগুলো প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। মূল বিবৃতিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au