নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৬টি ঝুটের গোডাউন পুড়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এতে আনুমানিক ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করতে সক্ষম হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে ফতুল্লার কাইয়ুমপুর বিলাসনগর এলাকার কাইসাবাড়ি মাঠে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঝুটের গোডাউনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ৩০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে থাকা ২৬টি গোডাউন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, কাইসাবাড়ি মাঠ এলাকায় আনোয়ার, ইসমাইল, জুয়েল ও মুন্নাসহ কয়েকজন ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন ঝুটের গোডাউন রয়েছে। এসব গোডাউনের একটিতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঝুটজাতীয় সামগ্রী সহজে দাহ্য হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক গোডাউন আগুনের কবলে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট। আগুন নিয়ন্ত্রণে শিবু মার্কেট ফায়ার স্টেশনের দুটি, নারায়ণগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের দুটি, হাজীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের দুটি এবং উপসহকারী পরিচালকের একটি ইউনিটসহ মোট সাতটি ইউনিট কাজ শুরু করে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিনের নেতৃত্বে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে গোডাউনগুলোতে থাকা দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে আরও সময় লাগে। শেষ পর্যন্ত সকাল ৭টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারায় আশপাশের গোডাউন ও অন্যান্য স্থাপনায় থাকা প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডে ২৬টি ঝুটের গোডাউন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট কাজ করেছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন আশপাশে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ ঝুটজাতীয় মালামাল পুড়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট গোডাউন মালিকরা।
তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ পরবর্তী তদন্তে আরও স্পষ্ট হতে পারে।