নাটোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের চুরি হওয়া ল্যাপটপ অবশেষে উদ্ধার করেছে পুলিশ। চুরির চার দিন পর নাটোর শহরের একটি কাপড়ের দোকান থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দোকানের এক কর্মচারীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তবে চুরির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত যুবক এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নাটোর শহরের কাফুরিয়াপট্টি মহল্লার নূর ক্লথ স্টোর নামের একটি কাপড়ের দোকান থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় দোকানের কর্মচারী অন্তর সাহাকে (২০) আটক করে নাটোর সদর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
রাত ১০টার দিকে স্থানীয় সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।
তিনি জানান, জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছিল। গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্ত করে সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে গত কয়েক দিনে ল্যাপটপটির অবস্থান বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছিল। তবে পুলিশও বিষয়টি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছিল। শেষ পর্যন্ত ল্যাপটপটি উদ্ধার করা গেলেও মূল অভিযুক্তকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
ল্যাপটপ উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছিল।
শনিবার রাতেও ল্যাপটপটি উদ্ধারের উদ্দেশ্যে পুলিশের একটি দল লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। পরে রোববার সন্ধ্যার পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাটোর সদর থানার একটি দল কাফুরিয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লথ স্টোরে যায়।
সেখানে দোকানের কর্মচারী অন্তর কুমার সাহা পুলিশকে জানান, তাঁর বাবা একটি ল্যাপটপ কুড়িয়ে পেয়েছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৯টার দিকে দোকান থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়।
পরে রাত পৌনে ১০টার দিকে উদ্ধার করা ল্যাপটপসহ অন্তরকে নাটোর সদর থানায় নেওয়া হয়। ল্যাপটপটি কীভাবে ওই দোকানে পৌঁছাল এবং চুরির ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ওসি মনসুর রহমান আরও জানান, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের পর পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে উদ্ধার করা ল্যাপটপটি জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের।
ল্যাপটপ উদ্ধারের খবর মোবাইল ফোনে ক্রিল ল্যান্ডারকে জানানো হয়েছে। খবরটি শুনে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন এবং উদ্ধার করা ল্যাপটপটি নিজের বলে শনাক্ত করেছেন।
তবে পর্যটকের ব্যাগে থাকা ক্যামেরা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সেগুলো উদ্ধারের পাশাপাশি মূল অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানান, রেলওয়ে স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত যুবকের চেহারা শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে সহায়তাকারী কিংবা সঠিক তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার রাতে নাটোর রেলওয়ে স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অভিযুক্ত যুবকের ছবি সংবলিত পোস্টার লাগানো হয়। দ্রুত তাঁকে গ্রেপ্তার করে পর্যটকের বাকি জিনিসপত্র উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পুলিশ সুপার।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর জার্মান নাগরিক ক্রিল ল্যান্ডার বগুড়ার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সান্তাহার হয়ে ট্রেনে নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান।
স্টেশনে অবস্থানকালে হলুদ রঙের ভেস্ট পরা এক যুবক নিজেকে রেলওয়ের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই যুবক পর্যটকের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন।
পরে ক্রিল ল্যান্ডার এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে যাওয়ার আগে নিজের ব্যাগটি ওই যুবকের কাছে রেখে যান। কিন্তু টাকা তুলে ফিরে এসে তিনি ওই যুবক কিংবা নিজের ব্যাগ, কোনোটিই খুঁজে পাননি।
পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন, যাঁর কাছে ব্যাগটি রেখেছিলেন, তিনি আদৌ রেলওয়ের কোনো কর্মচারী নন। এ ঘটনায় নাটোর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন জার্মান পর্যটক।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় চার দিন পর কাপড়ের দোকান থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হলো।
তবে ল্যাপটপটি কীভাবে ওই দোকানে গেল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। আটক তরুণের বাবার ল্যাপটপ কুড়িয়ে পাওয়ার দাবি যাচাই করছে পুলিশ। একই সঙ্গে মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং ক্যামেরাসহ বাকি মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।