বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি বান্দরবানের তিন কিশোরী, সন্ধানের অপেক্ষায় স্বজনেরা
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন কিশোরীর তিন দিনেও সন্ধান মেলেনি। গত রোববার সকালে বিদ্যালয় থেকে নিবন্ধন কার্ড নিয়ে আসার কথা বলে…
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের তুলনামূলক নিরাপদ ও স্থিতিশীল গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেছে সৌদি আরব। কিন্তু রাজধানী রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের প্রাণঘাতী হামলার পর দেশটির সেই নিরাপত্তার ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। হামলার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সেখানে বসবাসরত প্রবাসী পরিবারগুলো। কেউ কেউ পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে সন্তানদের নিয়ে সৌদি আরব ছাড়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সৌদি আরবের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হওয়ার পর টানা কয়েক দিন ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পূর্ব সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও দাম্মাম বিমানবন্দরেও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতিরা।
হুতিদের ভাষ্য, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরবের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন এবং চলতি বছরের শুরুর দিকে সানা বিমানবন্দরে সৌদি বাহিনীর হামলার জবাব হিসেবে এসব আক্রমণ চালানো হয়েছে।
সৌদি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আল আখবারিয়ায় প্রচারিত সিসিটিভি ফুটেজে বিমানবন্দরের ভেতরে আতঙ্কের দৃশ্য দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা সাদা পোশাকের যাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। বিমানবন্দরের লাউঞ্জে ধুলা ছড়িয়ে পড়া এবং ছাদের প্যানেল ভেঙে মেঝেতে পড়ে থাকার দৃশ্যও ফুটেজে উঠে এসেছে।
হামলার তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির বাইরেও সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক ব্যবসা, পর্যটন ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচেষ্টার ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাত বছর ধরে রিয়াদে বসবাসরত ৩৯ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক বিলাল মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ওমরাহ বা হজ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা মানুষকে এভাবে জীবনের ঝুঁকিতে পড়তে হবে, তা কাম্য নয়।
তিনি বলেন, অতীতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেন যুদ্ধে যা-ই করে থাকুক না কেন, তার অজুহাতে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। একটি বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার পক্ষে কোনো যুক্তি থাকতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সৌদি আরবের উচ্চ বেতনের চাকরি ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন ছেড়ে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন হবে বলে জানান বিলাল। তবে হামলার ভয়াবহতা ও ধারাবাহিকতা তাঁকে এবং অন্য প্রবাসী পরিবারগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
বিলাল বলেন, যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই। তিনি ও তাঁর পরিবার সৌদি আরবেই নিজেদের জীবন গড়ে তুলেছেন। কিন্তু পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে এবং হামলা বাড়তে থাকলে পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরত পাঠানোর কথা বিবেচনা করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই বিষয়টি ভাববেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা আরেক ব্রিটিশ নাগরিক মোহাম্মদ প্রায় এক দশক ধরে রিয়াদে বসবাস করছেন। পরিবার নিয়ে সৌদি আরবকে নিরাপদ মনে করলেও গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সুরক্ষা সত্ত্বেও হামলার শিকার হওয়ায় তিনি আতঙ্কিত।
মোহাম্মদ বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে তাঁর সন্তানেরাও বেশ ভয় পেয়ে গেছে। তিনি সন্তানদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে তারা নিরাপদ থাকবে। কিন্তু স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কয়েকজন বিদেশির প্রকাশ্যে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানোয় সন্তানদের পরিস্থিতি বোঝানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাঁর ভাষায়, ‘রিয়াদকে আর নিরাপদ মনে হচ্ছে না।’
প্রবাসীদের এসব বক্তব্য সৌদি আরবে বসবাসরত বিদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরেছে। তবে কতসংখ্যক প্রবাসী দেশটি ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।
হামলার প্রভাব সৌদি আরবের অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার ওপরও পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির যুবরাজ ও কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক সম্মেলন, বিনোদন ও পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন।
এই পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপদ পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে সৌদি আরবের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা সেই ভাবমূর্তির ওপর চাপ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রোববার সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত একটি জ্বালানি সম্মেলনে খুব কমসংখ্যক প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন। এর প্রায় দুই সপ্তাহ পর দেশটির অন্যতম বড় ব্যবসায়িক আয়োজন ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে সম্মেলনে কম প্রতিনিধির উপস্থিতির সঙ্গে হামলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে আসন্ন বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশগ্রহণের ওপর হামলার প্রভাব কী হবে, সে বিষয়েও চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনায় বিদেশি বিনিয়োগ, পর্যটন, বিনোদন এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ তৈরি হলে এসব খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
সাম্প্রতিক হামলাগুলো সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতকে নতুন করে বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে ইরান-সমর্থিত হুতিরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী গত জুলাইয়ে ইয়েমেনের রাজধানী সানা বিমানবন্দরে হামলা চালানোর পর সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়। ইরান থেকে হুতি কর্মকর্তাদের বহনকারী একটি বিমানকে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত রাজধানীতে অবতরণ করতে বাধা দেওয়াই ওই হামলার উদ্দেশ্য ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর জবাবে হুতিরা পাল্টা হামলা এবং অবরোধ আরোপের হুমকি দেয়। তাদের বক্তব্য ছিল, সৌদি আরব তাদের আকাশসীমা ও পরিবহনব্যবহারের সুযোগ সীমিত করার জবাবে সৌদি স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
পরবর্তী সময়ে লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয় হুতিরা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে লোহিত সাগর সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সৌদি আরব ও হুতিদের বর্তমান বিরোধের শিকড় ২০১৪ সালে শুরু হওয়া ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের মধ্যে নিহিত। জ্বালানি ভর্তুকি কমানো নিয়ে অসন্তোষ এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভাজন নিরসনে জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত জাতীয় সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর হুতিরা নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে।
নতুন ফেডারেল কাঠামোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর হুতিরা দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়।
২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা।
পরবর্তী সময়ে যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনে ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়। ক্ষুধা, রোগব্যাধি, স্বাস্থ্যসেবার সংকট এবং অবকাঠামো ধ্বংসের ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারান। এই যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো দেশটির রাজনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতিকে জটিল করে রেখেছে।
সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো কয়েক দশক ধরে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে আসছে। বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ওমান বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি, অবকাঠামো এবং যোগাযোগের সুবিধা দিয়েছে। বিনিময়ে মার্কিন অস্ত্র, সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে এসব দেশ।
কিন্তু সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত এই নিরাপত্তা অংশীদারত্বের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপসাগরীয় অঞ্চলের এক বিশ্লেষক মিডল ইস্ট আইকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা সম্পর্ক বর্তমানে গভীর টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ওই বিশ্লেষকের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে সৌদি আরবকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে বলতে পারেন না, অন্যদিকে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা আশা করবে, সেটিও অস্বীকার করতে পারেন না।
বিশ্লেষকটি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে যুদ্ধের পথে এগোনোর মার্কিন সিদ্ধান্ত নিয়ে সৌদি আরব উদ্বেগ জানিয়েছিল। ফলে আঞ্চলিক মিত্রদের এমন সংঘাতের পরিণতি বহন করতে হচ্ছে, যা তারা নিজেরা বেছে নেয়নি।
রিয়াদে হামলার পর ট্রাম্প সৌদি আরবকে নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম বলে মন্তব্য করলে এই অসন্তোষ আরও বাড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে মার্কিন অস্ত্র কিনতে এবং ওয়াশিংটনকে কেন্দ্র করে নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু বাস্তব হুমকি দেখা দেওয়ার পর সৌদি আরবকে নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে, এমন অবস্থান দুই পক্ষের অংশীদারত্বের প্রকৃত মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে গত আগস্টে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নতুন গুরুত্ব পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
চুক্তিটির লক্ষ্য হলো সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা। তবে সৌদি আরবে তুর্কি সেনা মোতায়েন করা হবে কি না, হলে কখন এবং কী পরিসরে হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। এ বিষয়ে আঙ্কারা পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সময়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনাও সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক হামলা সৌদি আরবের সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। প্রথমত, রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রবাসী পরিবার, পর্যটক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা। দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার ঠেকিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা সচল রাখা।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি আরব তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে পর্যটন, বিনোদন, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্থিতিশীল ও নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু হুতিদের ধারাবাহিক হামলা, ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন দেশটির পরিকল্পনাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে।
এদিকে রিয়াদে বসবাসরত প্রবাসীদের উদ্বেগের বিষয়টি শুধু সামরিক নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নেই। সন্তানদের স্কুল, পরিবারের দৈনন্দিন জীবন, চাকরি এবং দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পরিকল্পনাও তাঁদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
বিলাল ও মোহাম্মদের মতো প্রবাসীদের বক্তব্যে স্পষ্ট, সৌদি আরবে গড়ে তোলা জীবন ছেড়ে যাওয়া সহজ নয়। কিন্তু হামলা অব্যাহত থাকলে পরিবারের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশ ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন তাঁরা।
সৌদি আরবের জন্য এখন বড় প্রশ্ন হলো, আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে শুধু সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদার করাই যথেষ্ট হবে, নাকি আন্তর্জাতিক ব্যবসা, পর্যটন এবং প্রবাসীদের আস্থা ধরে রাখতে নিরাপত্তার পাশাপাশি আরও বিস্তৃত কূটনৈতিক পদক্ষেপও নিতে হবে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au