ভিক্টর ব্যানার্জি। ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করা ভারতীয় অভিনেতা ভিক্টর ব্যানার্জির আজ ৮০তম জন্মদিন। ১৯৪৬ সালের ১৫ অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন এই অভিনেতা।
ভিক্টরের প্রকৃত নাম পার্থসারথি বন্দ্যোপাধ্যায়। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক করার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগে সংগীত ও মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
১৯৭৭ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। পরে একই নির্মাতার ‘পিকু’ ও ‘ঘরে–বাইরে’ ছবিতে অভিনয় করেন। ‘ঘরে–বাইরে’ ছবিতে নিখিলেশ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার সম্মান পান।
ভিক্টরের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়ে ব্রিটিশ নির্মাতা ডেভিড লিনের ‘আ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। ১৯৮৪ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে ডা. আজিজ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এ কাজের জন্য ১৯৮৬ সালে ব্রিটিশ একাডেমি চলচ্চিত্র পুরস্কার (বাফটা)–এ সেরা প্রধান অভিনেতা বিভাগে মনোনয়ন পান।
পরবর্তী সময়ে রোমান পোলানস্কির ‘বিটার মুন’, রোনাল্ড নিমের ‘ফরেন বডি’ এবং ফরাসি নির্মাতা ক্লের ডেনির ‘হাই লাইফ’ ছবিতে অভিনয় করেন ভিক্টর। আর্জেন্টিনার নির্মাতা পাবলো সেজারের ‘থিঙ্কিং অব হিম’ ছবিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি।
বাংলা চলচ্চিত্রে ভিক্টরের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে মৃণাল সেনের ‘মহাপৃথিবী’ এবং শ্যাম বেনেগালের ‘কলিযুগ’ ও ‘আরোহণ’। বাণিজ্যিক বাংলা ছবির পাশাপাশি হিন্দি চলচ্চিত্রেও নিয়মিত কাজ করেছেন তিনি। রাম গোপাল ভার্মার ‘ভূত’ ও ‘সরকার রাজ’ তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য হিন্দি সিনেমা।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও রয়েছে তাঁর উপস্থিতি। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘মেহেরজান’ ছবিতে নানাজান চরিত্রে অভিনয় করেন ভিক্টর। চরিত্রটির প্রস্তুতির জন্য সুফিবাদ ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণাও করেছিলেন তিনি।
অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ভিক্টর। ২০২২ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণে ভূষিত করে। অভিনয়ের পাশাপাশি তথ্যচিত্র নির্মাণেও অবদান রেখেছেন তিনি। ১৯৯১ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এই অভিনেতা।
বর্ণাঢ্য অভিনয়জীবন সত্ত্বেও নিজের অভিনীত ছবি দেখার প্রতি ভিক্টরের আগ্রহ কম। সাক্ষাৎকার দিতেও বেছে বেছে রাজি হন। প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন তিনি। বই পড়া, পাহাড়ের নির্জন পরিবেশে সময় কাটানো এবং দর্শন ও শিল্প নিয়ে ভাবনাচিন্তায় স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পান এই অভিনেতা।