হত্যাচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ৪৮ বছর বয়সী রেমন্ড জেমস ডানগে। ছবি: সরবরাহকৃত
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির একটি হাসপাতালে জ্বালানি ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ এক রোগী বলেছেন, ভয়াবহ এ হামলা ‘১০ লাখ শতাংশ’ প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল। তাঁর অভিযোগ, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে ঘটনাটি এড়ানো যেত।
গত মঙ্গলবার সিডনির র্যান্ডউইক এলাকার প্রিন্স অব ওয়েলস হাসপাতালের স্পাইনাল ইউনিটে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একই ইউনিটের আরেক রোগী রেমন্ড জেমস ডানগে (৪৮) জামিনে মুক্ত অবস্থায় দিনের জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমতি নিয়ে হাসপাতালে ফেরেন। এ সময় একটি পানির বোতলে লুকিয়ে জ্বালানি নিয়ে আসেন তিনি।
পুলিশের অভিযোগ, ডানগে তিন রোগীর শরীরে দাহ্য তরল ছিটিয়ে দেন। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ৯নিউজকে জানানো হয়েছে, রাদোভান বানিচের কাছে পৌঁছানোর আগপর্যন্ত লাইটারটি কাজ করছিল না। পরে বানিচের শরীরে আগুন ধরে যায়।
৫৪ বছর বয়সী বানিচ কর্মস্থলে মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়ার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তিনি গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন।
৯নিউজকে বানিচ বলেন, হামলাটি আরও ভয়াবহ হতে পারত। তিনি বলেন, ‘আমি খুশি যে ঘটনাটি আমার সঙ্গে ঘটেছে, অন্য দুজনের সঙ্গে নয়। কারণ, তাদের কারও সঙ্গে এমন হলে হয়তো আজ তারা বেঁচে থাকত না।’
জামিন নামঞ্জুর অভিযুক্তের
বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হলে ডানগের জামিন আবেদন নাকচ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার দুটি অভিযোগ, হামলা এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করার চেষ্টার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে পৃথক কয়েকটি অভিযোগের মুখে জামিনে মুক্তি পেয়ে হাসপাতালে থাকার অনুমতি পেয়েছিলেন তিনি।
নিউ সাউথ ওয়েলসের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রায়ান পার্ক বলেছেন, বুধবারের এ হামলা ঠেকানো ‘খুব কঠিন’ ছিল। তবে বানিচ মনে করেন, যথাযথ পদক্ষেপ নিলে ঘটনাটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো।
তিনি বলেন, ‘১০ লাখ শতাংশ নিশ্চিত, ঘটনাটি প্রতিরোধ করা যেত।’
৯নিউজ নিশ্চিত করেছে, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগেও হাসপাতালের ওই স্পাইনাল ইউনিটে পুলিশ ডাকা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, তখন ডানগের সঙ্গে একজন নিরাপত্তাকর্মীর বিরোধ হয়েছিল।

বানিচ বলেন, হামলাটি প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল। ৯নিউজ।
বানিচ বলেন, ‘তার সেখানে থাকারই কথা ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেখানকার নার্সরা তার সঙ্গে কথা বলতেও ভয় পেতেন।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী পার্ক বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর হলেও এর পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। তাঁর ভাষায়, ‘এটি সম্পূর্ণ বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে রূপ নিতে পারত। ঘটনা যতটা গুরুতর ছিল, তার চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ হতে পারত।’
হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
ঘটনার পরপরই জরুরি পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে নার্সেস অ্যান্ড মিডওয়াইভস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাইকেল হোয়াইটস বলেন, হামলার আগে কী ঘটেছিল, হামলার সময় কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা তদন্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, ঘটনার সময় কী হয়েছিল এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে এখন কী করা দরকার, তা খতিয়ে দেখতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আবার ঘটার আশঙ্কা কমানো যায়।’
অন্যদিকে, বিরোধী দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক মুখপাত্র সারাহ মিচেল হামলার খবরকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে এখন বাস্তব ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
সূত্র: নাইন.কম.এইউ