কুয়ালালামপুরের আন্তর্জাতিক বিজনেস সামিটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী ‘সেলাঙ্গর আন্তর্জাতিক বিজনেস সামিট ২০২৬’। এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ এবং বাংলাদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্রেইন স্টেশন ২৩। সামিটে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সহযোগিতার সুযোগ তুলে ধরা হচ্ছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) শুরু হওয়া এ সামিট চলবে আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশের অংশগ্রহণে মোট ৫২৬টি প্রদর্শনী বুথ রয়েছে।
সামিটে বাংলাদেশের বুথে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন খাতের তথ্য, প্রকাশনা ও ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে দেশকে একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে সেবা দেওয়ার সম্ভাবনাও তুলে ধরা হচ্ছে।
বাংলাদেশভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্রেইন স্টেশন ২৩ পিএলসির মালয়েশীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ব্রেইন স্টেশন ২৩ টেক এসডিএন বিএইচডি’ সামিটে অংশ নিয়ে সফটওয়্যার প্রকৌশল, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিসেবায় বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরছে। সফটওয়্যার উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার সমন্বয় এবং ডিজিটাল আধুনিকায়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম তুলে ধরা হচ্ছে। ব্যাংকিং, আর্থিক প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও খুচরা বিক্রিসহ বিভিন্ন খাতে বৈশ্বিক গ্রাহকদের প্রযুক্তিসেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
সামিটের প্রথম দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী বাংলাদেশের বুথ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের কাছে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার সুযোগ তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি বুথে আগত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেন।
সামিটের উদ্বোধন শেষে বিভিন্ন দেশের প্রদর্শনী বুথ পরিদর্শনের সময় সেলাঙ্গর রাজপরিবারের যুবরাজ বাংলাদেশের বুথেও যান। এ সময় তিনি সামিটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ আন্তর্জাতিক সামিটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রযুক্তিসেবা রপ্তানি বৃদ্ধি, যৌথ ব্যবসায়িক প্রকল্প গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন পথ উন্মুক্ত হতে পারে।