ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা
হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। দিনভর নানা ধর্মীয় আচার, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হবে দিনটি। তবে নবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হবে বিদায়ের প্রস্তুতি। আগামীকাল বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহানবমীর তিথিতে দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা করেন। পুরাণের কাহিনি অনুসারে, এই দিনেই দেবী দুর্গার হাতে মহিষাসুরের বধ হয়েছিল। অন্যদিকে, রামায়ণের বর্ণনা অনুযায়ী, শ্রীরামচন্দ্র দুর্গার আরাধনা করে রাবণকে পরাজিত করেছিলেন। এ কারণে মহানবমীকে অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, মহানবমীতে কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ষোড়শ উপাচারে দেবী দুর্গার পূজা করা হয়। প্রচলিত ধর্মীয় কাহিনি অনুসারে, শ্রীরামচন্দ্র রাবণ বধের আগে ১০৮টি নীলপদ্ম দিয়ে দেবীর আরাধনা করেছিলেন। সেই বিশ্বাসের ধারাবাহিকতায় নবমীর পূজায় ১০৮টি নীলপদ্মের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এ ছাড়া নীলকণ্ঠ ও নীল অপরাজিতা ফুল এবং যজ্ঞের মাধ্যমে দেবীর পূজা করা হয়। যজ্ঞে ১০৮টি বেলপাতা, আমকাঠ ও ঘি ব্যবহার করে আহুতি দেওয়া হয়।
মহাঅষ্টমীর কুমারী পূজার পর নবমীর বিশেষ ধর্মীয় আচার হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপূজা। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহিষাসুরকে বধ করার সময় দেবী দুর্গা চামুণ্ডারূপ ধারণ করেছিলেন। চণ্ড ও মুণ্ড নামের দুই অসুরের বিনাশের সঙ্গে যুক্ত এই রূপের আরাধনাও পূজার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নবমীর পূজা শেষে ভক্তরা অঞ্জলি দেন এবং প্রসাদ গ্রহণ করেন।
মহানবমীকে কেন্দ্র করে মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের সমাগম ঘটবে। দেবীর কাছে অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করবেন ভক্তরা। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন যজ্ঞে আহুতি দিয়ে মনোবাসনা জানালে ধন-সম্পদ ও যশ লাভ হয়।
বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলা, বিকেল থেকে বিসর্জন
নবমীর পরদিন বুধবার (২১ অক্টোবর) পালিত হবে বিজয়া দশমী। এদিন দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা। বিবাহিত নারীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে সিঁদুর খেলা। এ সময় তাঁরা দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন করে একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেন এবং মিষ্টিমুখ করেন।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সিঁদুর খেলার মাধ্যমে বিবাহিত নারীরা স্বামীর মঙ্গল ও পরিবারের সুখ-শান্তি কামনা করেন। আনন্দ, নাচ ও গানের মধ্য দিয়ে তাঁরা দেবীকে বিদায় জানান। অবিবাহিতরাও অনেক স্থানে গাল ও হাতে সিঁদুর মেখে উৎসবে অংশ নেন। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গা আগামী বছর আবার ফিরে আসবেন।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বুধবার বিকেল ৩টার পর থেকে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে রাজধানীর পলাশীর মোড় থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে। শোভাযাত্রাটি সদরঘাটের ওয়াইজ ঘাটে গিয়ে শেষ হবে এবং সেখানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব। আনন্দ ও উৎসবের আবহের পাশাপাশি নবমীর রাত থেকেই পূজামণ্ডপগুলোতে বাজতে শুরু করবে বিদায়ের সুর।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au