শুভ বিজয়া দশমী: অশুভের বিনাশ, সত্য ও মানবতার জয়
শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ অধ্যায় বিজয়া দশমী। আনন্দ, বেদনা, আবেগ ও সম্প্রীতির এক অনন্য মেলবন্ধনে এই দিনটি বাঙালির হৃদয়ে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কয়েক দিনের উৎসব,…
মাগুরা পৌরসভার পারনান্দুয়ালী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে নিহত যুবদল নেতা শাকের হোসেনের (৩৯) মাথার খুলির ভেতর থেকে একটি বুলেট পাওয়া গেছে। আজ বুধবার দুপুরে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসক ও পুলিশের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিকভাবে গুলির আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকেরা।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান বলেন, হাসপাতালে শাকের হোসেনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর মাথার খুলির ভেতরে বুলেট পাওয়া গেছে। গুলির কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহত শাকের হোসেন মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর বাড়ি মাগুরা পৌরসভার পারনান্দুয়ালী ব্যাপারীপাড়ায়। তিনি ওই এলাকার মৃত কুতুবউদ্দিনের ছেলে।
আজ ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পারনান্দুয়ালী বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে অচেতন অবস্থায় শাকের হোসেনকে পাওয়া যায়। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রথমে অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
বাড়িতে গোসলের প্রস্তুতির সময় স্বজনেরা তাঁর মাথার পেছনে ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তে মাথার খুলির ভেতরে বুলেট পাওয়ার তথ্য সামনে আসে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাস টার্মিনালের প্রবেশমুখে জেলা পুলিশের স্থাপন করা একটি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ওই ক্যামেরার অডিওতে ঘটনার সময় দুটি গুলির শব্দ শোনা গেছে। ঘটনার কাছাকাছি সময়ে কয়েকটি মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক টার্মিনালে প্রবেশ ও বের হতে দেখা গেছে।
তবে ক্যামেরার অবস্থান থেকে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারটি আড়ালে থাকায় সেখানে কী ঘটেছে, তার দৃশ্য ধারণ হয়নি। ঘটনার সময় কাউন্টারের ভেতরে দুই যাত্রী ছিলেন। তাঁরা ঢাকাগামী বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, একটি মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি এসে শাকের হোসেনকে গুলি করে পালিয়ে যান। তবে হামলাকারীদের পরিচয়, হত্যার উদ্দেশ্য ও ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর আজ দুপুরে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে যান। সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসকেরা শাকেরের মাথার খুলির ভেতরে বুলেট পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। সকাল থেকেই প্রত্যক্ষদর্শীরা গুলির কথা বলছিলেন। তাঁরাও ঘটনাটিকে ‘টার্গেট কিলিং’ বলে দাবি করেছিলেন।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বড় কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ঘটনার মূল কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সহিংসতায় ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান বের করার দাবিও জানান।
দুপুরে মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীও হাসপাতালে যান। সকাল থেকেই হাসপাতাল ও বাস টার্মিনাল এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। দুপুর ১২টার দিকে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে টার্মিনাল এলাকায় মিছিল করেন তাঁরা। এ সময় কিছুক্ষণ ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।
আজ দুপুরে নিহত শাকের হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী, ভাই ও স্বজনেরা কান্নাকাটি করছেন। স্বামীকে হারিয়ে বারবার আহাজারি করছিলেন তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার রুমা। তাঁদের দুই সন্তান। একজন পঞ্চম শ্রেণিতে এবং অন্যজন নার্সারিতে পড়ে।
রুমা বলেন, প্রতিদিন ভোরে কাউন্টারে কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হতেন শাকের। আগের দিনও তিনি কাজে গিয়েছিলেন, ঘটনার দিনও গিয়েছিলেন। স্বামীর সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কি না, জানতে চাইলে রুমা বলেন, কারও সঙ্গে তাঁর খারাপ সম্পর্ক ছিল বলে তিনি জানেন না। শাকের সবার সঙ্গে মিশতেন, কারও প্রতি হিংসা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুমা বলেন, ‘কে আমার স্বামীকে নিয়ে গেল, আপনারা বের করে দেন। যে এই কাজ করেছে, তাকে খুঁজে বের করে আমার সামনে আনুন।’
স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, শাকেরের মৃত্যুর পর সন্তানদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au