শুভ বিজয়া দশমী: অশুভের বিনাশ, সত্য ও মানবতার জয়
শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ অধ্যায় বিজয়া দশমী। আনন্দ, বেদনা, আবেগ ও সম্প্রীতির এক অনন্য মেলবন্ধনে এই দিনটি বাঙালির হৃদয়ে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কয়েক দিনের উৎসব,…
মক্কায় মসজিদের ভেতরে চুম্বনের অভিযোগে এক বাংলাদেশি পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। তবে তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের রায় কিংবা তা কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে কিছু জানায়নি বলে দাবি করেছে ঢাকা। এ ঘটনায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় কূটনৈতিক জটিলতায় পড়েছে বাংলাদেশ। ঢাকার দাবি, মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা কিংবা তা কার্যকরের আগে সৌদি আরব বাংলাদেশকে অবহিত করেনি। প্রচলিত কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাঁর নিজ দেশের সঙ্গে এ ধরনের তথ্য বিনিময় প্রত্যাশিত। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
পরিস্থিতিটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে চায় ঢাকা। এমনকি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা জোট হিসেবে পরিচিত ‘মক্কা চুক্তি’তে যোগ দেওয়ার আগ্রহও জানিয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাও সরকারের জন্য বড় দায়িত্ব। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ফলে দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাটি শুধু মানবিক ও কনস্যুলার উদ্বেগ নয়, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য বিনিময় ও কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও তথ্য চেয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাঁদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাংলাদেশকে অবহিত করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি থাকলেও সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া শাস্তির বিষয়ে বাংলাদেশের বক্তব্যে দেশটির আইনি অবস্থান ও অভিযোগের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক। অপরাধের অভিযোগে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা আমাদের জন্য হতাশাজনক। আল্লাহর ঘরের পবিত্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ পবিত্র উদ্দেশ্য নিয়ে মক্কায় যান। এই ঘটনা সম্পর্কে আমরা যা শুনেছি ও জেনেছি, তা সত্য হলে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত দুঃখজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রশ্নের জবাব এখনো পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তার। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
অভিযোগ ছিল, পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে তাঁরা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছিলেন, যার মাধ্যমে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘিত হয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তাঁরা সৌদি আরবে আটক ছিলেন।
তবে মৃত্যুদণ্ডের আগে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশকে জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ঢাকা।
সৌদি আরবে নৈতিকতাসংক্রান্ত মামলায় আটক বাংলাদেশিদের সংখ্যা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রমকল্যাণ শাখার পাঠানো একটি তালিকা অনুযায়ী, পশ্চিম সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে এ ধরনের মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি বন্দী রয়েছেন।
তালিকার তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনকে এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিকের বসবাস ও কর্মসংস্থানের কারণে এ ধরনের মামলায় আটক ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা, কনস্যুলার যোগাযোগ এবং অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদেশি শ্রমবাজার। দেশটিতে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কাজ করেন। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ও বহু পরিবারের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
এ কারণে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে একদিকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আগাম তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ এই ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জকে সামনে এনেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে তথ্য বিনিময় ও কূটনৈতিক যোগাযোগ কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au