বাংলাদেশ

বাংলাদেশ: রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আওয়ামী লীগ

  • 8:31 pm - October 24, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৬০ বার
বাংলাদেশ: রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আওয়ামী লীগ। ছবি: সংগৃহীত

গুজব, জল্পনা ও নানা রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হচ্ছে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে ঘিরে। দলটিকে বাইরে রেখে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লেখক।

বাংলাদেশে এখন গুজব ও নানা জল্পনা-কল্পনার ছড়াছড়ি। এসবের প্রায় সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে দেশের রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি। তবে প্রশ্ন উঠতে পারে, দুই বছরেরও বেশি সময় আগে অসাংবিধানিক উপায়ে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশের রাজনীতিতে আদৌ কোনো কার্যকর পরিসর অবশিষ্ট আছে কি না।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সংসদ এখনো নিজের কার্যকর ভূমিকা খুঁজে পায়নি। জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে সেখানে অর্থবহ বিতর্ক হয়নি। বরং সংসদের বিরোধী দলের আসনে এখন এমন একটি দল বসেছে, যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার জন্য পরিচিত। অন্যদিকে, যারা সরকার গঠন করেছে, তাদের কর্মকাণ্ডেও সুশাসনের প্রকৃত অর্থ ও দায়িত্ব সম্পর্কে অনিশ্চয়তার ছাপ রয়েছে।

দেশের গণমাধ্যম কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। অসংখ্য দৈনিক পত্রিকার পাতায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, সমালোচনামূলক কলাম কিংবা সম্পাদকীয় মন্তব্য তেমন চোখে পড়ে না। শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থাও ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্রও স্পষ্ট: আইনের শাসনের অনুপস্থিতি এবং শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাই এখন নাগরিকদের বাস্তবতা।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি। এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। কূটনীতির ক্ষেত্রেও সরকারের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের ঘটনা বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও তাদের সঙ্গে আচরণের বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের নজরদারি এবং কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চাপে সরকার, বাড়ছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা

সরকারের ভেতরে এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। যদিও এসব জল্পনার পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে আসেনি, তবু রাজনৈতিক অঙ্গনে তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল নুরউদ্দিনের কথিত বৈঠক নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। জেনারেল নুরউদ্দিন সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে সেনাপ্রধান ছিলেন। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানানোর জন্যও তিনি আলোচিত।

রাজনীতির পর্দার আড়ালে কিছু একটা ঘটছে, এমন ধারণা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তবে ঠিক কী ঘটছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যা বোঝা যাচ্ছে, তা হলো, সরকার রাজনৈতিকভাবে চাপে রয়েছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সুস্পষ্ট পথ খুঁজে পাচ্ছে না। লেখকের মূল্যায়নে, বিএনপি সরকার এখন বহুমুখী চাপে থাকা একটি সরকার, যার সামনে সংকট উত্তরণের কার্যকর কৌশল স্পষ্ট নয়।

আওয়ামী লীগ প্রশ্নে সংকটে বিএনপি

গুজবের পেছনে বাস্তব ভিত্তি থাকলে বিএনপির নেতৃত্বের মধ্যেও ক্রমে এই উপলব্ধি তৈরি হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অমীমাংসিত অবস্থান বজায় রেখে সরকার পরিচালনা করা কঠিন।

লেখকের মতে, বিএনপি সরকার নিজের সিদ্ধান্তের কারণেই এক ধরনের রাজনৈতিক ফাঁদে পড়েছে। ইউনূস সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে সংসদে আইন করে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ায় দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপের সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হয়েছে।

এ ছাড়া, গণতান্ত্রিক রাজনীতির পুনরুজ্জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে সরকারের অনীহাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে লেখক মনে করেন। তাঁর মতে, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মুক্তির পথ তৈরি করা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো ছাড়া পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন কঠিন।

এই বাস্তবতা বিএনপির পক্ষে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা সম্ভব হবে না। পশ্চিমা দেশসহ বিভিন্ন বিদেশি সরকার এখন পর্যন্ত ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিএনপি সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেনি, এমন ধারণা থেকে সরকার স্বস্তি পেতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, দেশের রাজনীতির গতিপথ মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও শক্তির ভারসাম্যেই নির্ধারিত হয়েছে।

তাই শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ চিরতরে রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে আর ফিরতে পারবে না, এমন ধারণাকে লেখক টেকসই মনে করেন না।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় আওয়ামী লীগ

বর্তমানে আওয়ামী লীগ সংকটের মধ্যে থাকলেও জাতীয় রাজনীতিতে দলটির গুরুত্ব পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। সম্প্রতি লন্ডন, জেনেভা ও ওয়াশিংটনের মতো আন্তর্জাতিক শহরে আওয়ামী লীগ এবং দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন থিঙ্কট্যাংক একাধিক সম্মেলন ও সেমিনারের আয়োজন করেছে। এসব অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় অংশ নিয়েছেন। শেখ হাসিনা কয়েকটি অনুষ্ঠানে অডিওবার্তার মাধ্যমে যুক্ত হয়েছেন।

লেখকের দৃষ্টিতে, এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ হারানো রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। দলটি যে দ্রুত রাজনৈতিক পরিসরে ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরিতে আগ্রহী, এসব উদ্যোগকে তারই ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা?

এখন আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডিসেম্বর মাস। ওই মাসে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে। তবে তিনি কীভাবে দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তিনি কি দিল্লি থেকে সরাসরি ঢাকায় ফিরবেন? নাকি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করবেন? এসব প্রশ্নের পাশাপাশি তাঁর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলাবিরোধী এবং আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে যে অভিযোগ রয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ফিরলে শেখ হাসিনা কতটা নিরাপদ থাকবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিএনপি সরকারের প্রশাসনিক সক্ষমতা কি তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট? দেশে ফেরার পর তাঁর ওপর কোনো ধরনের হামলা বা ক্ষতি ঠেকাতে সরকার কতটা প্রস্তুত? এসব প্রশ্নের এখনো স্পষ্ট উত্তর নেই।

আরেকটি মতও আলোচনায় রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি, বরং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাঁকে নিরাপদে দিল্লিতে পৌঁছে দিয়েছিল, এমন বক্তব্যের ভিত্তিতে কেউ কেউ মনে করেন, তাঁকে দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক ভূমিকা থাকা উচিত। তবে এটি একটি আলোচিত মতামত, প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত নয়।

আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার কতটা সম্ভব?

প্রশ্ন, গুজব ও নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইঙ্গিত খোঁজা হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়েই বাংলাদেশ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যেতে পারবে কি না, বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু এখন সেটি।

লেখকের বক্তব্য, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক পরিসরের বাইরে রেখে গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন সহজ হবে না। সংকটটি কেবল একটি দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ।

বাংলাদেশের রাজনীতি এখনো শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে এবং তাঁর দল নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকায় অদূর ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা বাস্তবায়িত হবে, এমন প্রত্যাশার পক্ষে শক্ত ভিত্তি দেখছেন না লেখক।

তাঁর বিশ্লেষণে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান খুঁজতে হলে আওয়ামী লীগকে ঘিরে থাকা প্রশ্নগুলোরও মীমাংসা প্রয়োজন। দলটির ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নটি উপেক্ষা করে দেশের গণতান্ত্রিক স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সূত্র: নর্থইস্ট নিউজ

এই শাখার আরও খবর

ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে মারা গেলেন তরুণ ক্রিকেটার হৃদয়

উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল চট্টগ্রাম বিভাগ অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়কে। তবে রাজধানীতে পৌঁছানোর আগেই অ্যাম্বুলেন্সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অ্যাকিউট মায়েলয়েড…

বিক্ষোভ-সহিংসতা মোকাবিলায় ফ্রান্সে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ ও সম্ভাব্য সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার। শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ২৪ অক্টোবর থেকে দেশটির…

খুলনায় ওয়ার্ড যুবদল সভাপতিকে পেছন থেকে গুলি, অবস্থা সংকটাপন্ন

খুলনার তেরখাদায় ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি রামীম বিশ্বাসকে পেছন থেকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে তাঁর পাঁজরে গুলি বিদ্ধ হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ…

যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর সেন্ট মার্টিনের গভীর সমুদ্রে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান

অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে দুই সপ্তাহের দীর্ঘ সফর শেষে দেশে ফেরার দুই দিন পর সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছের গভীর সমুদ্রে যান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।…

সাজেকে সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জে শতাধিক আদিবাসী আহতের অভিযোগ

রাঙামাটির সাজেকে বিক্ষোভকারীদের ওপর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জে শতাধিক আদিবাসী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (এসিএইচআর)। সংস্থাটির দাবি, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা…

গাজীপুরে গার্মেন্টসের গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১০ ইউনিট

গাজীপুরের কাশিমপুরের পশ্চিম শৈলডুবি এলাকায় সুপ্রিম গার্মেন্টসের কার্টন ও সুতার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর)…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au