গাজীপুরে গার্মেন্টসের গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১০ ইউনিট
গাজীপুরের কাশিমপুরের পশ্চিম শৈলডুবি এলাকায় সুপ্রিম গার্মেন্টসের কার্টন ও সুতার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর)…
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে সফটওয়্যারের গোপন নিরাপত্তাত্রুটি আগের চেয়ে অনেক দ্রুত শনাক্ত হচ্ছে। এতে একদিকে সফটওয়্যারকে আরও নিরাপদ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে হ্যাকারদের হাতে এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলা চালানোর ঝুঁকিও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি ওয়েবসাইটে বড় ধরনের নিরাপত্তাবিভ্রাট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাতজন শীর্ষস্থানীয় সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এ উদ্বেগের কথা জানান। তাঁদের মতে, এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং সেগুলো কাজে লাগিয়ে আক্রমণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
মার্কিন সাইবার হুমকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভালনচেক’-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, এআইয়ের সহায়তায় প্রতি বছর সফটওয়্যারে শনাক্ত হওয়া ডিজিটাল ত্রুটি বা বাগের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ প্রিন্স বলেছেন, এআই ইন্টারনেটের মূল কাঠামোয় দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে থাকা জটিল নিরাপত্তাত্রুটিগুলোও সামনে নিয়ে আসছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
সম্প্রতি ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি ওয়েবসাইটে বড় ধরনের নেটওয়ার্কবিভ্রাট দেখা দেয়। বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা ‘পিএইচপি’তে একটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হ্যাকাররা ত্রুটিটি কাজে লাগানোর আগেই সাইবার নিরাপত্তা দলগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শুরু করে। ঝুঁকি এড়াতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, আগে কোনো সফটওয়্যারের নিরাপত্তাত্রুটি খুঁজে বের করতে এবং সেটিকে কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলার কৌশল তৈরি করতে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেত। কিন্তু আধুনিক এআই মডেলগুলো এখন প্রায় সার্বক্ষণিকভাবে সফটওয়্যারের কোড বিশ্লেষণ করে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুর্বলতা শনাক্ত করতে এবং সম্ভাব্য আক্রমণের পথ খুঁজে বের করতে সক্ষম হচ্ছে।
এর ফলে সাইবার হামলা প্রতিরোধে নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় অনেক কমে যাচ্ছে। কোনো দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর তা দ্রুত মেরামত করা না গেলে হ্যাকাররা সেটিকে কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি, ওয়েবসাইট অচল কিংবা বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ব্যাহত করতে পারে।
তবে এআইয়ের কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লেও বিষয়টিকে পুরোপুরি নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ প্রিন্স। তাঁর মতে, নিরাপত্তাত্রুটি দীর্ঘদিন গোপন থাকার চেয়ে দ্রুত শনাক্ত হওয়া ভালো। কারণ, এআইয়ের মাধ্যমে দুর্বলতাগুলো সামনে এলে সেগুলো দ্রুত মেরামত করার সুযোগ তৈরি হয়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে ইন্টারনেট অবকাঠামো আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, এআই প্রযুক্তির অগ্রগতি সাইবার নিরাপত্তার জন্য একই সঙ্গে নতুন ঝুঁকি ও সম্ভাবনা তৈরি করছে। একদিকে প্রযুক্তিটি দ্রুত দুর্বলতা শনাক্ত করতে পারছে, অন্যদিকে সেই তথ্যের অপব্যবহার ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও আরও দ্রুত ও কার্যকর হতে হচ্ছে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার হামলার ঝুঁকি কমাতে সফটওয়্যারের ত্রুটি দ্রুত মেরামত, নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au