সন্দেহভাজন ২৬ বছর বয়সী জান কোয়াজক সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। (৯নিউজ)
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের মিড-নর্থ কোস্ট এলাকায় একটি ক্যাবিনেটের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধারের তিন বছর পর হত্যার অভিযোগে এক যুবককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পোল্যান্ড থেকে প্রত্যর্পণের পর শুক্রবার সিডনিতে পৌঁছান ২৬ বছর বয়সী জান কোয়াজ।
অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম নাইন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোলিশ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় পরিচালিত তদন্তের পর শুক্রবার সিডনির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান জান কোয়াজ। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার হোমিসাইড স্কোয়াডের গোয়েন্দারা।
বিমানবন্দর থেকে তাঁকে সরাসরি ম্যাসকট পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়। সেখানে ২০২৩ সালের এপ্রিলে ২২ বছর বয়সী ডার্সি শেফার-টার্নারকে হত্যার অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। মাদকসংক্রান্ত ৫০ হাজার ডলারের দেনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাদকসংক্রান্ত দেনার জেরে হত্যার অভিযোগ
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, স্কুলজীবনের বন্ধু জাকারি রিচার্ড ফ্রেজার ডার্সি শেফার-টার্নারকে পিকহার্স্ট এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে ডেকে নেন। ফ্রেজারের ধারণা ছিল, ডার্সির কাছে অপর এক ব্যক্তির ৫০ হাজার ডলার দেনা রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অ্যাপার্টমেন্টে যাওয়ার পর ২২ বছর বয়সী ডার্সির মুখ বেঁধে ফেলা হয়। একপর্যায়ে তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁর মৃত্যু হয়।
পরে ঘটনাস্থলের আলামত সরিয়ে ফেলার জন্য কুইন্সল্যান্ডের এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার ডলার দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। চার্লস ডেনিস টার্নবুল নামের ওই ব্যক্তি সিডনিতে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিষ্কার করেন এবং মরদেহটি একটি ধাতব ক্যাবিনেটের মধ্যে ভরে রাখেন।
এরপর তিনি গাড়ি চালিয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা উত্তরে ম্যাকসভিল এলাকায় যান এবং একটি খালে ক্যাবিনেটটি ফেলে দেন।

ডার্সি শেফার-টার্নার ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল সিডনির একটি অ্যাপার্টমেন্টে মারা যান। ছবি: সংগৃহীত
এ ঘটনায় চার্লস ডেনিস টার্নবুল বর্তমানে কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। অন্যদিকে, জাকারি রিচার্ড ফ্রেজার নরহত্যার দায়ে কারাবন্দি রয়েছেন।
আদালতে হাজির হননি অভিযুক্ত
হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত জান কোয়াজের শুক্রবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। তাঁর আইনজীবী বিচারককে জানিয়েছেন, তাঁরা জামিনের আবেদন করবেন না।
পোল্যান্ড থেকে প্রত্যর্পণের পর তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, তা আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
সূত্র: নিউজ.কম.এইউ