গোলখরা কাটিয়ে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন আলভারেজ
দীর্ঘ আট মাসের গোলখরা কাটিয়ে স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদের জয়সূচক গোল করেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ। গোল করার পর সমর্থকদের কাছে আগের মন্তব্যের জন্য…
ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : ইলিশের প্রজনন ও বংশবিস্তার রক্ষায় সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে চলছে মা ইলিশ শিকার ও প্রকাশ্যে বিক্রি। নদীতে শত শত নৌকায় মাছ ধরার পাশাপাশি নদীতীরে বসছে অস্থায়ী বাজার। প্রশাসনের অভিযান চললেও বন্ধ হচ্ছে না এসব কার্যক্রম। এতে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নজরদারি ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জেলার গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী সদর, কালুখালী ও পাংশা উপজেলার পদ্মা নদী এবং নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় মা ইলিশ শিকার ও কেনাবেচা চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
গোয়ালন্দের কাউয়ালজানি, মুন্সিবাজার, বেতকা ও কলাবাগান; রাজবাড়ী সদরের মেছোঘাটা, কালীতলা, মহাদেবপুর ও জৌকুড়া; কালুখালীর হরিনবাড়িয়ার চর ও রতনদিয়া এবং পাংশার হাবাসপুর ও বাহাদুরপুরসহ শতাধিক পয়েন্টে এমন চিত্র দেখা গেছে।
নদী থেকে মাছ ধরে নৌকা ঘাটে। সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতারা ভিড় করছেন। নৌকায় কিংবা নদীর পাড়ে চলছে তাজা মা ইলিশের বেচাকেনা। দিনের আলোতেই এসব কার্যক্রম চলায় নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
মৎস্যজীবী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামছেন। তাঁদের অভিযোগ, তালিকাভুক্ত হয়েও অনেকে সরকারি খাদ্যসহায়তা পাচ্ছেন না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঋণের কিস্তি ও সংসারের খরচ।
দৌলতদিয়ার মৎস্যজীবী রেজাউল মণ্ডল বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে তাঁরা সম্মান করেন। কিন্তু অনেক জেলে সহায়তা পান না। সামান্য চাল দিয়ে সংসার চলে না, তার ওপর কিস্তির চাপ রয়েছে। বাধ্য হয়েই অনেকে নদীতে নামছেন।
জেলে আনোয়ার মণ্ডল, মো. জিয়া শেখ ও লালনেরও অভিযোগ, তালিকাভুক্ত হয়েও তাঁরা গত এক বা দুই বছর ধরে চাল কিংবা খাদ্যসহায়তা পাচ্ছেন না। তাঁদের মতে, সহায়তা না পাওয়ায় জীবিকার সংকটে নিষেধাজ্ঞার সময়েও মাছ শিকারে যেতে হচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ীতে নিবন্ধিত জেলে ১৪ হাজার ১০২ জন। তাঁদের মধ্যে ইলিশ শিকারের সঙ্গে জড়িত কার্ডধারী জেলে ৬ হাজার ৩০৪ জন। তবে এবার খাদ্যসহায়তা পাচ্ছেন ৫ হাজার ৫৯২ জন। ফলে ৭১২ জন কার্ডধারী জেলে সহায়তার বাইরে রয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও প্রকাশ্যে মা ইলিশ শিকার ও বিক্রি চলতে থাকায় প্রজনন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা। তাঁদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, নদী ও মাছ বিক্রির স্থানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
দর্শনার্থী জহুরুল ইসলাম হালিম বলেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও যেভাবে প্রকাশ্যে মাছ ধরা ও বিক্রি হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির পাশাপাশি প্রকৃত জেলেরা যেন শতভাগ সরকারি সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হক জানান, মা ইলিশ রক্ষায় প্রতিদিন নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। গত ১১ দিনে পদ্মা নদীতে ৩৯টি অভিযান ও সাতটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au