খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-সাজেক সড়কে তৃতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। অন্যদিকে, সাজেকে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলার সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এর মধ্যেই শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সেনা জোনের বাইল্যাছড়ি জোড়া ব্রিজ এলাকায় অস্ত্র হাতে একদল লোকের মহড়ার দৃশ্য সেনাবাহিনীর ড্রোনে ধরা পড়েছে।
অবরোধের কারণে সাজেকের পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের উজোবাজার এলাকার দোকানপাট। ওই এলাকায় যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে।
শনিবার সকাল থেকে সাজেকে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের ডাকা অবরোধের সমর্থনে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এতে দুপুর পর্যন্ত সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ থাকে। বন্ধ ছিল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও। তবে দুপুরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। রাঙামাটি শহরে যান চলাচল ও নৌপথে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
অন্যদিকে, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের ১০ নম্বর এলাকা, মাচালং ১৪ কিলোমিটার ও মারিশ্যা ১১ কিলোমিটারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।
বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের পর থেকে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের উজোবাজার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শনিবারও সেখানকার কোনো দোকানপাট খোলেনি। সড়কে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল থাকলেও যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের চলাচলের ওপর জেলা প্রশাসনের বিধিনিষেধও বহাল রয়েছে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুল রকিব বলেন, উজোবাজারের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ টহল দিচ্ছে। তবে যানবাহন চলাচল করছে না।
এর আগে বুধবার বিকেলে সাজেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নাম ব্যবহারকারী সশস্ত্র ব্যক্তিদের অবস্থানের অভিযোগ তুলে তাঁদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেয় সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সাজেক থেকে প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তা প্রহরায় খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হলে তাতে বাধা দেন অবরোধকারীরা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। এরপর উজোবাজারসহ আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, অবরোধকারীদের ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত, উজোবাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটে হওয়া ক্ষতির যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনায় আহত নারী-পুরুষের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ।
এ ছাড়া সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের দ্রুত সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুমের অভিযোগের অবসান চেয়েছেন আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানি এবং তাঁদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।