শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল
ঢাকার বাড্ডায় জুলাই আন্দোলনের সময় গাড়িচালক ইমদাদুল হককে হত্যার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। একই মামলায় এজাহারভুক্ত আরও…
পিরোজপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, প্রশাসন প্রথমে তাঁর মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেনি। পরে পুলিশ লাইন্সের ভেতরে গোপনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হলেও নিজ এলাকায় মরদেহ দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মরদেহ নিয়ে আসার পর গার্ড অব অনার দেওয়া এবং স্থানীয়ভাবে দাফনের বিষয়ে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। পিরোজপুর জেলা জামায়াতের এক নেতা মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে তাঁর মরদেহ পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে না দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে।
মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। গত দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি নিজ এলাকায় অবস্থান করছিলেন না। এ সময় টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ে ও জামাতার কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে আসা হয়। দুপুর ১২টার দিকে মরদেহ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নেওয়া হলে গার্ড অব অনার দেওয়া ও দাফনের বিষয়ে বাধার মুখে পড়তে হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইন্সের ভেতরে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মানিক পশারীর জামাতা ফারুক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তাঁর শ্বশুর একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মৃত্যুর পর মরদেহ নিয়ে তাঁরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা বলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করানো হয়।
ফারুক হোসেনের ভাষ্য, একটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে বরফের ব্যবস্থা ছাড়াই চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা মরদেহ রাখতে হয়েছে। পরে পুলিশ লাইন্সের ভেতরে গোপনে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। মরদেহ কোথায় এবং কীভাবে দাফন করা হবে, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন দায়িত্ব নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দাফন নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।
অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তাঁকে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না এবং পিরোজপুরের মাটিতে তাঁর মরদেহ দাফন করতে দেওয়া হবে না।
তবে মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে জামায়াত নেতার এ বক্তব্যের পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি স্বীকৃতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথি দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীমও জানিয়েছেন, মানিক পশারীর মরদেহে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে।
একজন মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফন নিয়ে এ ধরনের বিরোধ ও বাধার অভিযোগ স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি করেছে। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা এবং মরদেহ দাফনের মতো মৌলিক বিষয়েও তাঁদের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়েছে। অন্যদিকে, মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে আপত্তি থাকলে তা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে মরদেহের সম্মানজনক দাফন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au