সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফাইল
ঢাকার বাড্ডায় জুলাই আন্দোলনের সময় গাড়িচালক ইমদাদুল হককে হত্যার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। একই মামলায় এজাহারভুক্ত আরও ৭৭ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের অপারেশনস শাখার (বারিধারা) পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্ত শেষে সম্প্রতি তিনি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আসাদুজ্জামান নূর, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও জুনাইদ আহ্মেদ পলকের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামকেও অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে নাম রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিল, মোহাম্মদ ওয়াকিল উদ্দিন ও হেদায়েতুল্লাহ রনির। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকেও আসামি করা হয়েছে।
এজাহারভুক্ত ৭৭ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ
তদন্ত কর্মকর্তা মামলার এজাহারে নাম থাকা আরও ৭৭ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ওয়াসিকুর রহমান বাবু ও কামাল উদ্দিন শাহীন।
তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তার অব্যাহতির সুপারিশের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি পৃথক।
বাড্ডায় গুলিতে নিহত হন ইমদাদ
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন গাড়িচালক ইমদাদুল হক। বাড্ডার এএমজেড হাসপাতালের কাছাকাছি এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাদ্দাম হোসেনসহ অন্য আসামিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা ঘটনাস্থলে সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও তাঁদের নির্দেশে গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল বলে তদন্তে অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, ইমদাদের কপালে গুলি লাগে। গুলিটি মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মামলায় আসামি ১২২ জন
ইমদাদ হত্যার ঘটনায় গত ৯ সেপ্টেম্বর সাইফুল নামে এক ব্যক্তি মামলা করেন। তিনি নিজেকে ইমদাদের চাচাতো ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। মামলার এজাহারে শেখ হাসিনাসহ ১২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত শেষে ৪৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং ৭৭ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাইয়ের বিষয়। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হবে।