৪৪০ সরকারি সেবার মাইগভ বন্ধ, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ৪৪০টি সেবা পাওয়া যায় এমন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মাইগভের ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। জরুরি নথি সত্যায়ন, জমিসংক্রান্ত সেবা, বিভিন্ন…
কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও বায়ার্ন মিউনিখের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। অন্যদিকে, নারীদের ব্যালন ডি’অর জিতে তৃতীয়বারের মতো ইতিহাস গড়েছেন স্পেনের আলেক্সিয়া পুতেয়াস।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে লন্ডনে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন।
২০২৫-২৬ মৌসুমে দুর্দান্ত গোল করার সুবাদে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ক্লাবের হয়ে এক মৌসুমে ৬১টি গোল করেন কেইন। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ১৯টি বেশি। এক মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের কোনো খেলোয়াড়ের এটাই সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা, যা ২০১৪-১৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর করা ৬১ গোলের সমান।
ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে কেইনের গোলসংখ্যা ছিল ৭৩। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে তৃতীয় স্থান অর্জনে সহায়তা করেন তিনি। গোল করার অসাধারণ দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফিও জিতেছেন এই ইংলিশ তারকা।
পুরুষদের ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থান পেয়েছেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ তরুণ ফুটবলার লামিন ইয়ামাল। চতুর্থ হয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রদ্রি এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছেন লিওনেল মেসি।
তবে পুরস্কার ঘোষণার আগেই ব্যালন ডি’অরের ওয়েবসাইটে কেইন, এমবাপ্পে ও ইয়ামালকে বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করে আলাদা নিবন্ধ প্রকাশিত হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। পরে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে পুরুষদের মূল পুরস্কার ওঠে কেইনের হাতেই।
ইয়ামালের টানা তৃতীয় কোপা ট্রফি
পুরুষদের কোপা ট্রফি জিতে টানা তৃতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-২১ বয়সী সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেয়েছেন লামিন ইয়ামাল। ২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪টি গোল করার পাশাপাশি ১৭টি গোলে সহায়তা করেন তিনি। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে কিশোর খেলোয়াড়দের মধ্যে গোল ও গোলে সহায়তার হিসাবে তিনিই ছিলেন সবার ওপরে।
বার্সেলোনাকে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ইয়ামাল। পুরস্কার গ্রহণের পর তিনি সতীর্থ পাউ কুবারসির প্রশংসা করেন। ইয়ামালের মতে, এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য ছিলেন কুবারসি, যিনি বিশ্বকাপে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।
কোচ ও গোলরক্ষকদের পুরস্কার
পুরুষদের বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার পেয়েছেন স্পেনের লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তাঁর অধীনেই বিশ্বকাপে শিরোপা জেতে স্পেন। পুরুষদের ইয়াশিন ট্রফি জিতেছেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। বিশ্বকাপে স্পেনের আট ম্যাচে মাত্র এক গোল হজম করেন তিনি।
নারীদের বিভাগে বর্ষসেরা কোচ হয়েছেন বার্সেলোনার পেরে রোমেউ। তাঁর অধীনে লিগে ৩০ ম্যাচের মধ্যে ২৯টিতে জয় পায় দলটি। মৌসুমে বার্সেলোনার গোল ব্যবধান ছিল ১২১। নারীদের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন বার্সেলোনার কাতা কোল। লিগে ১৭ ম্যাচে মাত্র ছয় গোল হজম করার পাশাপাশি ১১টি ম্যাচে কোনো গোল খেতে হয়নি তাঁকে।
নারীদের ব্যালন ডি’অর আলেক্সিয়ার
নারীদের ব্যালন ডি’অর জিতে তৃতীয়বারের মতো এই সম্মান অর্জন করেছেন স্পেনের আলেক্সিয়া পুতেয়াস। বার্সেলোনার সাবেক অধিনায়ক পুতেয়াস বর্তমানে ইংল্যান্ডের ক্লাব লন্ডন সিটি লায়নেসের হয়ে খেলছেন। এর আগে স্পেনের আইতানা বোনমাতিও তিনবার নারীদের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন।
নারীদের বর্ষসেরা ক্লাব নির্বাচিত হয়েছে বার্সেলোনা। অন্যদিকে, পুরুষদের বর্ষসেরা ক্লাবের স্বীকৃতি পেয়েছে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের পর এই পুরস্কার পেয়েছে পিএসজি।
নারীদের কোপা ট্রফি জিতেছেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ ফুটবলার ভিকি লোপেজ। আর নারীদের গার্ড মুলার ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়েছেন মেক্সিকো ও পাচুকার স্ট্রাইকার চার্লিন কোরাল। ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার জেতা প্রথম মেক্সিকান খেলোয়াড় তিনি।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের বিজয়ীদের তালিকা
পুরুষদের ব্যালন ডি’অর: হ্যারি কেইন, বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ড।
নারীদের ব্যালন ডি’অর: আলেক্সিয়া পুতেয়াস, বার্সেলোনা ও স্পেন।
পুরুষদের জোহান ক্রুইফ ট্রফি: লুইস দে লা ফুয়েন্তে, স্পেন।
নারীদের জোহান ক্রুইফ ট্রফি: পেরে রোমেউ, বার্সেলোনা।
পুরুষদের কোপা ট্রফি: লামিন ইয়ামাল, বার্সেলোনা ও স্পেন।
নারীদের কোপা ট্রফি: ভিকি লোপেজ, বার্সেলোনা ও স্পেন।
পুরুষদের ইয়াশিন ট্রফি: উনাই সিমন, অ্যাথলেটিক ক্লাব ও স্পেন।
পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফি: হ্যারি কেইন, বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ড।
নারীদের গার্ড মুলার ট্রফি: চার্লিন কোরাল, পাচুকা ও মেক্সিকো।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au