৪৪০ সরকারি সেবার মাইগভ বন্ধ, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ৪৪০টি সেবা পাওয়া যায় এমন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মাইগভের ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। জরুরি নথি সত্যায়ন, জমিসংক্রান্ত সেবা, বিভিন্ন…
বাংলাদেশে চলমান হাম পরিস্থিতিকে দেশের টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতার সতর্কসংকেত হিসেবে দেখছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে হাম ছাড়াও ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও টিকা থেকে উদ্ভূত পোলিও ভাইরাসের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। এরই মধ্যে দেশে হামে এক হাজার ২০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বার্তা সংস্থার দেখা একটি প্রতিবেদনে এসব সতর্কতার কথা উঠে এসেছে। চলতি অক্টোবরের শুরুর দিকে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের একটি স্বাধীন কমিটি বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করে এবং তা সরকারের কাছে জমা দেয়।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত মার্চ থেকে বাংলাদেশ হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং এক হাজার ২০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে এটিকে দেশের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হাম প্রাদুর্ভাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, হাম পরিস্থিতি দেশের টিকাদান ব্যবস্থার অবনতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ও সতর্কবার্তা। দ্রুত ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হুপিং কাশি, ডিপথেরিয়া এবং টিকা থেকে উদ্ভূত পোলিও ভাইরাসের বড় ধরনের সংক্রমণ দেখা দেওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাহিদ রায়হান এএফপিকে বলেন, বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে যত দ্রুত সম্ভব টিকাদানকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
সরকারের পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, টিকা সহায়তাকারী জোট গ্যাভি এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার সহায়তায় চলতি মাসের শুরুতে ৭০ সদস্যের একটি দল দেশের টিকাদান কর্মসূচি পর্যালোচনা করে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের মাত্র ৮২ শতাংশ শিশু পূর্ণাঙ্গ টিকা পেয়েছে, যা জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা ৯৫ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। এ ছাড়া টিকাদানকর্মীদের প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে।
একসময় টিকাদান কর্মসূচিতে সফলতার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ছিল বাংলাদেশ। ১৯৭৯ সালে এ কর্মসূচি শুরুর পর দেশ পোলিও ও নবজাতকের ধনুষ্টঙ্কার নির্মূল করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি রুবেলা ও হেপাটাইটিস বি নিয়ন্ত্রণেও অগ্রগতি অর্জন করে।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে হামবিরোধী টিকাদান অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানো রাজনৈতিক গণঅভ্যুত্থানের কারণে তা পিছিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালে ধর্মঘট ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে টিকাদান কার্যক্রম আরও বাধাগ্রস্ত হয়। কর্তৃপক্ষ পরে দেশজুড়ে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু করলেও সংক্রমণ বাড়তে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ছোট শিশুরা এ রোগে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
অন্যদিকে, হুপিং কাশি শিশুদের, বিশেষ করে নবজাতকদের, গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে। ডিপথেরিয়া শ্বাসনালি বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্র ও স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে। আর পর্যাপ্ত টিকা না পাওয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকা থেকে উদ্ভূত পোলিও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে পক্ষাঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি দেশের টিকাদান ব্যবস্থার ঘাটতি দূর করা, শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগ এবং সব শিশুর পূর্ণাঙ্গ টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় প্রতিরোধযোগ্য আরও কয়েকটি সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au