বাংলাদেশে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে গণগ্রেপ্তার, তল্লাশি, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেছেন তিনি। তবে গ্রেপ্তারের এই সংখ্যা ও তাঁর উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা। বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে গণগ্রেপ্তার, ব্যাপক তল্লাশি, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা কর্তৃপক্ষের প্রতি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে কাজ করছে। তিনি সরকারের ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারের সংকটের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিনিয়োগে স্থবিরতার মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে। এসব বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে তাঁর এই বক্তব্যগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারত চলে যান। এরপর বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়। পরবর্তী সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।
২০২৫ সালের নভেম্বরে ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে ভূমিকার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। শেখ হাসিনা অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
এদিকে, বিচারিক কার্যক্রমের মুখোমুখি করতে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধ প্রতিষ্ঠিত আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনার সর্বশেষ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বর্তমান সরকারের মধ্যে বিরোধ আরও আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালের সহিংসতার বিচার, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং রাজনৈতিক অধিকার ও মানবাধিকার সুরক্ষার প্রশ্ন দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।