ইউপি সদস্যকে এলোপাথাড়ি মারধর করেন বিএনপি নেতা। ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে এক ইউপি সদস্যকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম তোতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য।
অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম তোতা (৫৬) রায়গঞ্জ থানা শ্রমিক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সোনাখাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি ওই ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের ওসমান আলীর ছেলে। ভুক্তভোগী সরোয়ার হোসেন আকন্দ (৫১) সোনাখাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের আওতায় এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দে একটি কালভার্ট নির্মাণ করেন ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন। অভিযোগ, প্রকল্পের বিল থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বিএনপি নেতা তোতা। ওই টাকা দিতে অস্বীকার করায় সোমবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে চেয়ারম্যানের কক্ষে গিয়ে সরোয়ারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গালিগালাজে নিষেধ করলে তোতা ক্ষিপ্ত হয়ে তাৎক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি সরোয়ারকে কিল-ঘুষি মারেন এবং এলোপাতাড়ি পেটান। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় রক্ষা পেলেও তাঁকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে পরিষদ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন আকন্দ গণমাধ্যমকে বলেন, নিজের টাকা খরচ করে তিনি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ করেছেন। কিন্তু বিএনপি নেতাকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় বিল পাচ্ছেন না। পরিষদের সচিব চেক প্রস্তুত করে রেখেছেন। তবে ৫০ হাজার টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে চেক না দিতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন সরোয়ার।
অভিযোগ অস্বীকার করে সিরাজুল ইসলাম তোতা বলেন, ইউপি সদস্যের সঙ্গে পরিষদে যে ঘটনা ঘটেছে, তা সমাধানের দায়িত্ব স্থানীয় বিএনপি নেতারা নিয়েছেন। বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।
সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি তাঁর সামনেই ঘটেছে। বিষয়টি দুঃখজনক।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, পরিষদের ঘটনা তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।