স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা, কে নন: ২৮ বিশিষ্টজন
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশের ২৮ বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁরা…
ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে আট বছরের পুরোনো একটি ফৌজদারি মানহানির মামলায় নতুন করে সমন জারি করেছেন দিল্লির একটি আদালত। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিল্লির সাকেত আদালত এ সমন জারি করেন। ধ্রুব রাঠি বর্তমানে ভারতের বাইরে অবস্থান করায় দিল্লি-সংলগ্ন হরিয়ানার গুরুগ্রামে তাঁর বাড়ির দরজায় সমন সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
বিকাশ সংকৃত্যায়ন ওরফে বিকাশ পান্ডে নামের এক ব্যক্তি ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে এ ফৌজদারি মানহানির মামলাটি দায়ের করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আই সাপোর্ট নরেন্দ্র মোদি’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ধ্রুব রাঠির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ‘বিজেপি আইটি সেল পার্ট ২’ শিরোনামের একটি ভিডিওতে বিকাশকে বিজেপির আইটি সেলের দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
বিকাশের অভিযোগ, ওই ভিডিওতে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অসম্মানজনক তথ্য প্রচার করা হয়। ভিডিওতে দাবি করা হয়েছিল, বিকাশ মহাবীর প্রসাদ নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ লাখ রুপি ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যাতে ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে অসম্মানজনক ভুয়া তথ্য ছড়ানো যায়। তবে বিকাশের দাবি, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এর মাধ্যমে তাঁর সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণেই তিনি ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির মামলা করেন।
ধ্রুব রাঠির ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন দিল্লির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এ ঘটনায় কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধেও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে তাঁকে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল।
মামলাটি দায়েরের পর ২০১৯ সালের জুলাইয়ে ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে প্রথমবার সমন জারি করেন আদালত। তবে তিনি সে সময় জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায় বসবাস করায় সমন কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ফলে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়াও দীর্ঘদিন ধরে এগোয়নি।
সম্প্রতি ভারতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গঠন এবং দলটির সরকারবিরোধী আন্দোলনে ধ্রুব রাঠির সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর পুরোনো মামলাটি আবার আলোচনায় আসে। তিনি জার্মানি থেকে ভারতে এসে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে সিজেপির আন্দোলনে অংশ নেন। পরে ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিতেও যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। তবে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই পুলিশ তাঁকে আটক করে।
ধ্রুব রাঠির ভারতে অবস্থানের খবর জানার পর মামলাকারী বিকাশের আইনজীবী সাকেত আদালতে জরুরি আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ধ্রুব রাঠি বর্তমানে ভারতে রয়েছেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা সমন কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত ১২ অক্টোবর বিশেষ সমন জারির অনুমতি দেন।
মামলার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের একজন কর্মী সমন পৌঁছে দিতে গুরুগ্রামে ধ্রুব রাঠির বাসায় যান। তবে ১৭ অক্টোবর নির্ধারিত ঠিকানায় গিয়ে বাড়িটি তালাবদ্ধ দেখতে পান তিনি। এরপর শনিবার আদালত নতুন করে জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করেন। আগামী ৩ নভেম্বর পরোয়ানা কার্যকরের বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে।
এদিকে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে বিরোধী দলগুলো দেশজুড়ে আন্দোলন করছে। এ আন্দোলনের অংশ হিসেবে রোববার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।
শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘গণ-অভিশংসন’ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিদেশে অবস্থান করেও বিরোধীদের এ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ধ্রুব রাঠি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ‘গণতন্ত্র বাঁচাতে’ রামলীলা ময়দানের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সিজেপির আন্দোলনে ধ্রুব রাঠির অংশগ্রহণ এবং বিরোধীদের সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে তাঁর সমর্থনের মধ্যেই আট বছরের পুরোনো মানহানির মামলাটি নতুন করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের শুনানিতে আদালত এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেন, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au