স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা, কে নন: ২৮ বিশিষ্টজন
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশের ২৮ বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁরা…
রাজধানীর উপকণ্ঠে তুরাগ নদ থেকে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নতুন সূত্র পেয়েছে পুলিশ। তাঁর পরিচিত শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার করে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মৃত্যুর আগের রাতে উত্তরার একটি বারে তাহসিফের সঙ্গে এক তরুণীর প্রবেশের ভিডিও সামনে এসেছে। ওই তরুণীর পরিচয় ও অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে দীপের পাশাপাশি ওই তরুণীর বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
গত ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার একটি বারে তাহসিফ ও এক তরুণীকে প্রবেশ করতে দেখা যায়। বারের সামনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে তাহসিফ একটি মোটরসাইকেল নিয়ে বারের বিপরীত পাশে আসেন। মোটরসাইকেলের পেছনে ছিলেন এক তরুণী। তাহসিফের মাথায় হেলমেট ছিল না। মোটরসাইকেল থেকে নেমে দুজন হেঁটে বারের ভেতরে প্রবেশ করেন।

তাহসিফের ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করল পিবিআই। ছবিঃ সংগৃহীত
এর কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে আসেন শাহরিয়ার রেজা দীপ। তাঁর মাথায় হেলমেট ছিল। মোটরসাইকেল রেখে তিনিও বারের দিকে যান এবং পরে তাহসিফ ও ওই তরুণীর সঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করেন। রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে তাঁদের সেখানে প্রবেশের বিষয়টি ভিডিওতে দেখা গেছে।
পরে তিনজন যখন বার থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলের কাছে ফিরে আসেন, তখন ওই তরুণীর হাতে একটি সাদা পলিথিনের ব্যাগ দেখা যায়। এরপর তাঁরা কী করেছিলেন, কোথায় গিয়েছিলেন এবং রাতের বাকি সময়ে তাঁদের মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই তরুণীর সন্ধান করছে পুলিশ। তিনি কতক্ষণ তাহসিফ ও দীপের সঙ্গে ছিলেন এবং ২৮ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত তাঁদের কর্মকাণ্ড কী ছিল, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
২৮ বছর বয়সী সাবেক বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার উপকণ্ঠে তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয়। তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম, যিনি আগে পদ্মা অয়েল কোম্পানিতে চাকরি করতেন, শুরু থেকেই ছেলের মৃত্যুর পেছনে অস্বাভাবিক কিছু রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিলেন। পরে তিনি হত্যার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর তাহসিফের পরিচিত শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বয়স ২০ বছরের কিছু বেশি বলে জানা গেছে। শনিবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত চার দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। ছবিঃ সংগৃহীত
এর আগে ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ নৌ পুলিশের সদস্য এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারা দীপকে নিয়ে কথিত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে তাহসিফের মৃত্যুর বিষয়ে দীপের দেওয়া বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তাঁর বক্তব্য ও ঘটনার বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে অমিল থাকায় তদন্তকারীরা মনে করছেন, তিনি ঘটনার বিষয়ে আরও কিছু জানলেও তা প্রকাশ করেননি। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাঁর সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে তাঁর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। তবে ময়নাতদন্তের ফলাফল নিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করায় বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হত্যার মামলা দায়েরের পর ময়নাতদন্তের ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে ফরেনসিক চিকিৎসকদের ওপর চাপ কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ওই প্রতিবেদনে পানিতে ডুবে মৃত্যুর পাশাপাশি কোনো আঘাত বা হত্যার আলামত ছিল কি না, তা স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিতে ডুবে মৃত্যু দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা কিংবা হত্যার ফল হতে পারে। এ ধরনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ব্যক্তি পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার সময় জীবিত ছিলেন এবং শ্বাসের সঙ্গে পানি গ্রহণ করেছিলেন কি না, তা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য ফুসফুসে পানির উপস্থিতি, মুখের চারপাশে সূক্ষ্ম ফেনা, পাকস্থলীতে পানি এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ডায়াটম বা ক্ষুদ্র শৈবালজাতীয় কণার উপস্থিতির মতো আলামত পরীক্ষা করা হয়।
তবে শুধু পানিতে ডুবে মৃত্যুর লক্ষণ পাওয়া গেলেই সেটিকে দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্তভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা যায় না। হত্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হলে শরীরে আঘাতের চিহ্নসহ অন্যান্য আলামতও পরীক্ষা করতে হয়। যেমন, আত্মরক্ষার চেষ্টায় সৃষ্ট ক্ষত, মাথায় ভোঁতা বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন, হাতে গলায় চাপ প্রয়োগের আলামত, শরীর বেঁধে রাখার চিহ্ন কিংবা শরীরে অস্বাভাবিক মাত্রায় মাদক বা অ্যালকোহলের উপস্থিতি।
অন্যদিকে, পানিতে ডুবে মৃত্যুর স্বাভাবিক ফরেনসিক লক্ষণ না পাওয়া গেলে পানিতে ফেলার আগেই অন্য কোথাও তাঁর মৃত্যু হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও তদন্তে বিবেচনায় আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে মরদেহ পানিতে ফেলে দেওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ ও সময় নির্ধারণে অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তবে গ্রেপ্তার দীপের বক্তব্য, বারের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা তরুণীর পরিচয়, তাঁদের চলাচলের সময় ও স্থান এবং ময়নাতদন্তের ফলাফল, সবকিছু মিলিয়েই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে হবে।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au