ধানক্ষেতের পাশের গর্তে নারী-পুরুষের অর্ধগলিত লাশ
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ধানক্ষেতের পাশের একটি শ্যালো মেশিন ঘরের গর্ত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলার…
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সরাসরি কারও কাছ থেকে হুমকি না পেলেও ওই ঘটনার পর মানসিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পরিবারের সদস্যরা। এ কারণে মানিক পশারীর মেয়ে শিমু ও সৎ বোন হেনা বেগম রাতে নিজেদের বাড়িতে না থেকে একই গ্রামের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছেন।
শনিবার রাতে পিরোজপুর সদর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে গেলে পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে এসব তথ্য জানান তাঁর মেয়ে শিমু।
শিমু বলেন, বাবাকে দাফনের পর তিনি মায়ের সঙ্গে গোপালগঞ্জে চলে গিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি চিথলিয়া গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসেছেন। তবে তাঁর মা মনোয়ারা বেগম এখনও গোপালগঞ্জে আরেক মেয়ের বাসায় অবস্থান করছেন। পরিবারের সদস্যরা এলাকায় থাকলেও দাফনের সময় ঘটে যাওয়া পরিস্থিতির কারণে তাঁদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে।
শিমু বলেন, সরাসরি কেউ তাঁদের কোনো হুমকি দেয়নি। তারপরও বাবার দাফনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে তাঁরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও বসবাস করতে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছেন। এ কারণে রাতে নিজেদের বাড়িতে না থেকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকছেন তিনি। তাঁর সৎ ফুফু হেনা বেগমও রাতে নিজের বাড়িতে থাকছেন না। একই গ্রামের কখনও মেয়ের, কখনও ছেলের বাড়িতে রাত কাটাচ্ছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁদের পরিবারের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে জানান শিমু। তাঁর ভাষ্য, ওই সময় তাঁদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছিল। এরপর তিনি বাবা-মা, বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে গোপালগঞ্জে চলে যান। প্রায় তিন মাস পর তিনি আবার চিথলিয়ার বাড়িতে আসা শুরু করেন। এরপর মাঝেমধ্যে বাড়িতে এসে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে থাকতেন। কিছুদিন অবস্থানের পর আবার গোপালগঞ্জে চলে যেতেন।
মানিক পশারীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের দৈনন্দিন কাজ করছেন। চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষের স্বাভাবিক উপস্থিতিও দেখা গেছে। তবে মানিক পশারী ও তাঁর পরিবারের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে স্থানীয়দের মধ্যে অনীহা লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, মানিক পশারীর বিষয়ে কথা বললে তাঁরা কোনো ঝামেলায় পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না। নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁরা নিজেদের নামও প্রকাশ করতে রাজি হননি। তবে তাঁদের কেউ সরাসরি কোনো ভয়ভীতি বা হুমকির শিকার হয়েছেন বলে জানাননি। এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তাঁরা।
মানিক পশারীর এক চাচাতো ভাই বলেন, তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় চলাফেরা করছেন। তাঁদের চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো বিশেষ সমস্যার কথাও তিনি জানাননি।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাধেশ্যাম সরকার বলেন, মানিক পশারীর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, এমন কোনো মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছে আসেনি। তবে এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে।
গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে চলে যান ৮৭ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। টুঙ্গিপাড়ায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গত ২৪ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার প্রস্তুতি এবং দাফন নিয়ে বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে নেওয়ার পর সেখানে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ সময় জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত নেতাকর্মীরা আপত্তি জানান বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁদের আপত্তির মুখে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গার্ড অব অনার দেওয়ার কার্যক্রম নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরে পুলিশ লাইনে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়।
এরপর গভীর রাতে পুলিশি পাহারায় মানিক পশারীকে দাফন করা হয়। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও দাফনকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতির খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
মানিক পশারী একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন। ওই মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তিনি। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মানিক পশারীর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান ও দাফন ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি এবং পরিবারের সদস্যদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে এখনও আলোচনা রয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, পরিবারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না এলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও টহল অব্যাহত রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au