ফ্রান্সে বিক্ষোভ চলাকালে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন দাঙ্গা পুলিশ সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত।
ওটিএন বাংলা: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বৈষম্য এবং শিক্ষা ও জনসেবার অবনতির প্রতিবাদে ফ্রান্স ও জার্মানিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের একাংশের সংঘর্ষ হয়। তবে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিকাংশ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৭০ হাজার মানুষ। টানা তৃতীয় সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত এই আন্দোলনে শিক্ষার্থী, শ্রমিক সংগঠন এবং বিভিন্ন নাগরিক গোষ্ঠী যোগ দেয়।
প্যারিসে মিছিলের শেষ পর্যায়ে মুখোশধারী কিছু ব্যক্তি পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। একটি মলোটভ ককটেল বা পেট্রলবোমার আঘাতে এক পুলিশ সদস্যের পোশাকে আগুন ধরে যায়।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ ঘটনাটিকে ‘হত্যাচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। সহিংসতার ঘটনায় দেশজুড়ে চার শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে জার্মানিতে ‘জেন জেড রেগেল্ট’ নামের একটি উদ্যোগের ডাকে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বেশি বিনিয়োগ, সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা পুনর্বহালের বিরোধিতাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।
ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভের একপর্যায়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ও দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পাওয়া যায়। হামবুর্গেও কিছু ব্যারিকেডে আগুন দেওয়া হয়। জার্মান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি স্থানে সহিংস ঘটনায় পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।
-news.com.au