ফেসবুকে ঢাকা দখলের ডাক, কে এই ছাত্রলীগ নেতা?
ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : ফেসবুকে আওয়ামী লীগের ব্যানারে ‘ঢাকা দখলের’ ঘোষণা দিয়ে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ছাত্রলীগের এক নেতা। তাঁর নাম আসাদ মোল্লা (৩০)।…
গাইবান্ধায় আবু বক্কর সিদ্দিক বিপুল (৫২) নামে এক চা পাতার ব্যবসায়ীর ট্রেনে কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। তার হাতে পাওয়া একটি চিরকুটে নিজের মৃত্যুর জন্য ছয়জনকে দায়ী করেছেন তিনি। পরিবারের দাবি, বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন বিপুল। চড়া সুদের চাপ, ঋণের টাকা পরিশোধের তাগাদা এবং ভয়ভীতির কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন।
রোববার (১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধা পৌর শহরের স্টেডিয়ামসংলগ্ন রেললাইনে এ ঘটনা ঘটে। সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী পদ্মরাগ ট্রেনের নিচে কাটা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত বিপুল পূর্ব কোমরনই এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি পেশায় চা পাতার ব্যবসায়ী ছিলেন।
রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রেললাইনে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি উদ্ধার করে। এ সময় নিহতের হাতে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে নিজের মৃত্যুর জন্য তাদের দায়ী করেছেন বিপুল। চিরকুটে কয়েকজনকে ‘সুদখোর’ ও আওয়ামী লীগের দালাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেদিনই তার বাড়ি দখল হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্থানীয় কয়েকজন দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন বিপুল। ঋণের বিপরীতে পাওনাদাররা অতিরিক্ত সুদ দাবি করতেন। টাকা পরিশোধের জন্য তারা নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করতেন এবং বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখাতেন। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় বিপুল হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।
চিরকুটে ছোট ভাই হিসেবে উল্লেখ করা মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে আবু জাহেদ শিপুল জানান, নিহত বিপুল তার বড় ভাই। রেলওয়ে পুলিশের মাধ্যমে তিনি ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। চিরকুটে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় তার ভাবি ও নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।
ঋণের বিষয়ে আবু জাহেদ শিপুল বলেন, ঋণদাতারা তার ভাইয়ের কাছে কত টাকা দাবি করতেন, তা পরিবারের জানা নেই। তারা কখনো সুনির্দিষ্টভাবে ঋণের পরিমাণ জানাতেন না। তবে মাঝেমধ্যে বাড়িতে এসে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিতেন।
চিরকুটে ছয়জনের নাম, তদন্ত করছে পুলিশ
গাইবান্ধা রেলওয়ে (বালাসীঘাট) পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সাহেব গনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহতের হাতে পাওয়া চিরকুটে টাকা লেনদেনের বিষয়ে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানানো হয়েছে।
তবে চিরকুটে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
দাদন ব্যবসা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ
এদিকে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তি ও সমিতি-সংস্থার আড়ালে দাদন ব্যবসার বিস্তার ঘটছে। চড়া সুদের বিনিময়ে ঋণ নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্রমেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত হচ্ছেন।
তাদের দাবি, ঋণের টাকা ও অতিরিক্ত সুদ পরিশোধ করতে না পেরে অনেকে নিজেদের সহায়-সম্পদ বিক্রি করেও পাওনাদারদের চাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। কোথাও কোথাও ঋণের টাকা আদায়ের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সম্পত্তি দখলের অভিযোগও উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এসব অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঋণের নামে অতিরিক্ত সুদ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
একজন ব্যবসায়ীর এমন মৃত্যুর ঘটনায় ঋণ লেনদেন, সুদের কারবার এবং পাওনাদারদের চাপের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে বিপুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিরকুটে উল্লেখ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au