মেলবোর্ন ১ জুলাই
বাফুফের তিন দিনের ট্রায়াল শেষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ হয় জাতীয় স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোন ট্রায়াল ম্যাচ দেখতেও গ্যালারিতে হাজারো দর্শকের ভিড়। গ্যালারি থেকে ভক্তরা আওয়াজ দিয়েছেন, গলা ফাঠিয়েছেন, সাহস যুগিয়েছেন মাঠের খেলায়। তাইতো ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়রাও ভালোবাসার প্রতিদান দিতেই দর্শকদের সাথে হাত মিলিয়েছেন, সেলফি তুলেছেন। এ যেন ভালোবাসার এক অনন্য নিদর্শন।
ছবিটা শুধুই থমকে থাকা একটা মুহূর্ত নয়—এটা ইতিহাসের একটা নতুন পৃষ্ঠা। স্টেডিয়ামের লোহার গ্রিল, যা সাধারণত আলাদা করে দেয় খেলোয়াড় থেকে দর্শকদের, কিন্তু এদিন সেতুবন্ধন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই পাশে থাকা দুই প্রজন্ম—একপাশে স্বপ্ন দেখা তরুণ ফুটবলার, আরেক পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো হৃদয়ে ফুটবল-প্রীতির আগুন। জাতীয় স্টেডিয়ামে বাফুফের তিন দিনের ট্রায়ালের শেষ দিনে যা দেখা গেল, তা শুধুই একটা খেলা ছিলো না—এটা ছিল আবেগ, ভালোবাসা আর প্রত্যাশার বিস্ফোরণ।
বাফুফের তিন দিনের ট্রায়াল শেষে জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ। মাঠের ঘাসে ঘাম ঝরিয়েছে দেশের সম্ভাবনাময় প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ খেলোয়াড়রা, যারা হবেন দেশের নেক্সট গ্লোবাল স্টার। যারা স্বপ্ন দেখছে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজেকে প্রমাণ করার। তারা জানে, এমন একটা সুযোগ যদি কাজে লাগানো যায়, তাহলে বদলে যেতে পারে দেশের ফুটবল। সেই বিশ্বাসেই তারা লড়েছে; আর গ্যালারির প্রতিটি হাততালিতে ছিলো সেই স্বপ্নের জন্যই সমর্থন।
আপনি হয়তো ভাবছেন স্টেডিয়ামে হঠাৎ কেন এত ভিড়?
বাংলাদেশের ফুটবল দীর্ঘদিন ছিলো একরকম নীরবতায় ঢাকা। ঘরোয়া লিগ হোক বা জাতীয় দলের ম্যাচ, স্টেডিয়াম ছিলো প্রায় ফাঁকা। কিন্তু এবার দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে। হামজা ফাহমিদুল, জায়ান হাকিমদের মতো প্রবাসী ফুটবলাররা যেভাবে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলতে এসেছেন, তাতে অনেকের হৃদয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা যেন এক এক জন লাল সবুজের দূত—যারা আবার বাংলাদেশের ফুটবলটাকে বাঁচিয়ে তুলছে।
এই তিন দিনের ট্রায়ালে সেই স্বপ্নেরই প্রতিচ্ছবি দেখা গেলো। দর্শকরাও বুঝে গেছে, এই প্রজন্ম নতুন কিছু দিতে পারে। তাই তারা মাঠে এসেছে, জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে থেকেছে ঘন্টার পর ঘন্টা। গলা ফাটিয়ে আওয়াজ দিয়েছে। মাঠে খেলোয়াড়দের সাহস জুগিয়েছে। তাইতো ম্যাচ শেষে খেলোয়াররাও দেয়ালের ওপার থেকেই হাত মিলিয়ে সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিয়েছে।
বাংলাদেশের ফুটবলে হঠাৎ নতুন জোয়ার তুলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুটবল নিয়ে আলোচনা বেড়েছে। ফেসবুক, ইউটিউব, নিউজ মিডিয়া—সবজায়গায় এখন ফুটবল নিয়ে কথা হচ্ছে। তরুণরা ইউরোপীয়ান ফুটবলের পাশাপাশি এখন বাংলাদেশের খেলাও দেখতে চায়। আর এই যে নতুনভাবে মাঠমুখী হওয়া, এটা শুধুই একটা সাময়িক উন্মাদনা নয়—এটা একটা পরিবর্তনের সূচনা।
ছবির সেই হাত মেলানো মুহূর্তটা এই নতুন জোয়ারের প্রতীক। সেই সব তরুণ যারা খেলার পর হাঁপাতে হাঁপাতে গিয়ে দর্শকদের ধন্যবাদ দিচ্ছে—তারা জানে, এই ভালোবাসা না থাকলে উন্নয়ন সম্ভব না। আবার দর্শকরাও জানে, এই তরুণদের পাশে না দাঁড়ালে তারা হারিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের ফুটবলে একটা নতুন সূর্যের উদয় হয়েছে। হয়তো এটা এখনো পপরিপূর্ণতা পায়নি, কিন্তু আলো দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট। জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আজকের এই ভিড়, এই আবেগ—এগুলো শুধু একটা ট্রায়ালের গল্প না। এটা আসলে বাংলাদেশের ফুটবলের জেগে ওঠার দিনলিপি।
শুধু দেয়ালের দুই পাশে নয়, এই ফুটবল ভালোবাসা এখন গোটা দেশের দুই প্রান্তে। এখন দরকার শুধু যত্ন আর সুযোগ। তাহলেই একদিন এই ছবিগুলো হবে আমাদের ফুটবল ইতিহাসের সোনালী অধ্যায়।