মেলবোর্ন ৪ জুলাই
১৯৯ থেকে পেসার জশ টংয়ের বল ফাইন লেগে খেলে রান পূর্ণ করার আগেই বাতাসে হাত ছুড়লেন শুভমান গিল। পরে হেলমেট ও ব্যাট উঁচিয়ে চেনা উদযাপনে মাতলেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ও বিরল এক ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন ভারত অধিনায়ক।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টের দ্বিতীয় দিন গিল ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৩১১ বলে। টেস্ট নেতৃত্বের দ্বিতীয় ম্যাচেই এই স্বাদ পেলেন ২৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। হেডিংলিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে নেতৃত্বের অভিষেকে তিনি করেছিলেন সেঞ্চুরি।
১৯৩২ সালের জুনে ভারত তাদের অভিষেক টেস্ট খেলেছিল ইংল্যান্ডেই, ক্রিকেট-তীর্থ লর্ডসে। ৯৩ বছরের এই পরিক্রমায় এই প্রথম ইংল্যান্ডে ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারলেন ভারতের কোনো অধিনায়ক।
দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কোনো দেশে ডাবল সেঞ্চুরি করা উপমহাদেশের প্রথম অধিনায়কও গিল। এক্ষেত্রে আগের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ২০১১ সালে লর্ডসে শ্রীলঙ্কার তিলাকারাত্নে দিলশানের ১৯৩।
দুইশ ছুঁয়েই থেমে থাকেননি গিল। ৩৮৭ বলে ২৬৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। ৩০ চার ও ৩ ছক্কায় গড়া তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি।
টেস্টে কোনো ভারতীয় অধিনায়কের সর্বোচ্চ ইনিংস এটি। ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পুনে টেস্টে ভিরাট কোহলির অপরাজিত ২৫৪ ছিল আগের সর্বোচ্চ। কোহলির ওই ইনিংস ছাড়িয়ে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে ভারতের সর্বোচ্চ স্কোরও এখন গিলের। গত মে মাসে টেস্ট থেকে কোহলির অবসরের পর এই সিরিজ দিয়েই চার নম্বরের নতুন দায়িত্ব কাঁধে নেন তিনি।
ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে উপমহাদেশের বাইরে প্রথম আড়াইশ রানের ইনিংসও এটিই। ২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনি টেস্টে শচিন টেন্ডুলকারের অপরাজিত ২৪১ ছিল আগের সর্বোচ্চ।
গিলের ইনিংসটি সফরকারী অধিনায়কদের মধ্যে ইংল্যান্ডে তৃতীয় সর্বোচ্চ। তার ওপরে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ ২৭৭ রান করেন ২০০৩ সালে এজবাস্টনেই, ১৯৬৪ সালে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৩১১ রানের ইনিংস খেলেন অস্ট্রেলিয়ার বব সিম্পসন।
ভারতের অধিনায়ক হিসেবে ইংল্যান্ডে এতদিন সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের। ১৯৯০ সালের অগাস্টে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ২৪৩ বলে ১৭৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে গিলের আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারেন কেবল সুনিল গাভাস্কার ও রাহুল দ্রাবিড়। ১৯৭৯ সালে দা ওভালে ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে ৪৪৩ বলে ২২১ রান করেন গাভাস্কার। একই মাঠে ২০০২ সালে ৪৬৮ বলে ২১৭ রানের ইনিংস খেলেন দ্রাবিড়। এই দুই গ্রেটকে ছাড়িয়ে ইংল্যান্ডে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসও এখন গিলের।
টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা ভারতের ষষ্ঠ অধিনায়ক গিল। তার মতো একটি করে দ্বিশতক আছে মানসুর আলি খান পাতৌদি, গাভাস্কার, টেন্ডুলকার ও মাহেন্দ্র সিং ধোনির। কোহলির আছে সাতটি, যা কোনো অধিনায়কের বিশ্ব রেকর্ড।
এই ছয় জনের মধ্যে গিলের আগে দেশের বাইরে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারেন শুধু কোহলি, ২০১৬ সালে অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
ভারতীয় অধিনায়কদের মধ্যে গিলের (২৫ বছর ২৯৮ দিন) চেয়ে কম বয়সে ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারেন কেবল মানসুর আলি খান পাতৌদি (২৩ বছর ৩৯ দিন)।
ইংল্যান্ডে অধিনায়কদের টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরি হলো ১১টি (৪টি স্বাগতিকদের, ৭টি সফরকারী দলগুলোর)। এর মধ্যে গিলের চেয়ে কম বয়সে এই স্বাদ পেয়েছেন শুধু গ্রায়েম স্মিথ। ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক টানা দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করেন এজবাস্টন ও লর্ডসে, প্রথমটিতে তার বয়স ছিল ২২ বছর ১৭৫ দিন)।
গিলের একটি ডাবল সেঞ্চুরি আছে ওয়ানডেতেও। টেস্ট ও ওয়ানডে, দুই সংস্করণেই ডাবল সেঞ্চুরি তার আগে করতে পারেন টেন্ডুলকার, ভিরেন্দার শেবাগ, ক্রিস গেইল ও রোহিত শার্মা। তবে ২৫ বা এর কম বয়সে এই যুগলের স্বাদ পাওয়া প্রথম ক্রিকেটার গিল।
টেস্ট ও ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি এবং টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি, এমন কীর্তি গড়া ইতিহাসের তিন ক্রিকেটারের একজন গিল। বাকি দুজন গেইল ও রোহিত।