ছবি: গুগল
মেলবোর্ন ৫ জুলাই
এজবাস্টন টেস্টে মাঠের খেলা যতটা উত্তেজনাকর, তার চেয়েও বেশি উত্তাপ ছড়াচ্ছে মাঠে বাংলাদেশী আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতের সিদ্ধান্ত ঘিরে। আগেরবার ওকস শরিফউদ্দলাকে নিয়ে কটু কথা বলেছিল আর এবার বেন স্টোকস সরাসরি তর্কে জড়িয়ে গেলেন শরফুদ্দোল্লাহ ইবনে শহীদ সৈকতের সাথে।
ইংল্যান্ড-ভারত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের সৈকত। টেস্টের প্রথম দিন থেকেই একাধিক এলবিডব্লু সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট ইংলিশ শিবির। সেই ধারা বজায় থাকল তৃতীয় দিনেও, যখন মাঠে ঘটে গেল আরেক বিতর্কিত ঘটনা। এবার সরাসরি ইংলিশ অধিনায়ক বেন স্টোকসের সঙ্গে তর্কে জড়ালেন সৈকত।
ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসের ৮ম ওভারে ইংলিশ পেসার জশ টং এলবিডব্লুর আবেদন করেন ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল-এর বিপক্ষে। আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা তখন সঙ্গে সঙ্গে আঙুল তুলে দেন। ইংল্যান্ডের শিবির খুশি হলেও জয়সওয়াল তখনও নিশ্চিত ছিলেন না সিদ্ধান্ত নিয়ে। তিনি লোকেশ রাহুলের সঙ্গে আলোচনা করে খানিকটা দেরিতেই রিভিউ নেন।
এই রিভিউ নেওয়ার বিষয়টাই বিতর্কের জন্ম দেয়। ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস ছুটে যান আম্পায়ার সৈকতের দিকে। তার দাবি ১৫ সেকেন্ডের নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে, তাই রিভিউ নেয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। আম্পায়ার সৈকত জানান, রিভিউ সময়ের মধ্যেই নেওয়া হয়েছে, এবং সিদ্ধান্ত তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু স্টোকস সেটা মানতে রাজি নন, বেশ কিছুক্ষণ ধরে তর্ক চলতে থাকে। পরে আরেক অনফিল্ড আম্পায়ার ক্রিস গ্যাফানিও এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে টিভি আম্পায়ার পল রাইফেল রিভিউয়ে দেখতে পান জয়সওয়াল সত্যিই আউট ছিলেন। ফলে মাঠ ছাড়তে হয় ভারতীয় ওপেনারকে, কিন্তু মাঠ ছাড়ার আগ পর্যন্ত স্টোকসের চেহারায় স্পষ্ট ছিল অসন্তুষ্টির ছাপ।
তবে এটিই প্রথম নয়। ভারতের প্রথম ইনিংসে একই জয়সওয়ালের বিপক্ষে ক্রিস ওকস-এর একটি এলবিডব্লুর আবেদনেও শরফুদ্দৌলা আউট না দিয়েছিলেন। ইংল্যান্ড রিভিউ নিলেও সেটি ‘আম্পায়ার্স কল’-এ টিকে যান জয়সওয়াল। তখন থেকেই ইংল্যান্ড শিবির কিছুটা নাখোশ ছিল সৈকতের সিদ্ধান্ত নিয়ে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, সৈকতের সিদ্ধান্তগুলো কি আসলেই ত্রুটিপূর্ণ, না কি প্রতিপক্ষের চাপের মুখে ভিন্ন আলোচনার জন্ম নিচ্ছে? আলোচনায় থাকা আম্পায়ার হিসেবে শরফুদ্দৌলার অভিজ্ঞতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েই হয়তো পরবর্তী দিনে আরও কথাবার্তা হবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, এজবাস্টন টেস্টে সৈকতের নামটি মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরেও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।