ছবি: ক্রিকইনফো
মেলবোর্ন ৬ জুলাই
ব্যাটিং কিংবা বোলিং, এজবাস্টন টেস্টে দাপুটে এক দিন কাটাল ভারত। একই ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি ও দেড়শ ছোঁয়া ইনিংসের অনন্য কীর্তি গড়লেন অধিনায়ক শুবমান গিল। সঙ্গে রাভিন্দ্রা জাদেজা ও রিশাভ পান্তের ফিফটিতে বিশাল পুঁজি গড়ল ভারত। পরে ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারে ছোবল দিলেন ভারতের নতুন বলের দুই পেসার।
অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির দ্বিতীয় টেস্টে পাহাড়সম রানের সামনে ভীষণ চাপে পড়েছে ইংল্যান্ড। ৬০৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় স্বাগতিকরা চতুর্থ দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ৭২ রানে। ম্যাচ বাঁচাতে কাটাতে হবে শেষ দিনের পুরোটা, আর জিততে এখনও প্রয়োজন ৫৩৬ রান, যা প্রায় অসম্ভব।
এই মাঠে প্রথমবার টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা ফেরাতে ভারতের প্রয়োজন আর ৭ উইকেট। এখানে আগে আট টেস্ট খেলে সাতটিতেই তারা হেরেছে, ড্র হয়েছে অন্যটি।
চতুর্থ দিনের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম গিল। প্রথম ইনিংসে ২৬৯ রানের পর এবার ১৬২ বলে ১৬১ রান করেন তিনি। ১৩ চার ও ৮ ছক্কায় গড়া তার ইনিংসটি।
ভারতের দ্বিতীয় ও বিশ্বের নবম ক্রিকেটার হিসেবে একই টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন তিনি। একটি জায়গায় তো তিনি অনন্য। একই টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি ও দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস টেস্ট ইতিহাসে নেই আর কারো। নেতৃত্বের দ্বিতীয় টেস্টে আরও অনেক কীর্তি গড়েছেন ২৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
ম্যাচে দ্বিতীয় ফিফটিতে জাদেজা এবার অপরাজিত রয়ে যান ১১৮ বলে ৬৯ রান করে। ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে ৫৮ বলে ৬৫ রান করেন পান্ত।
২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনিতে করা ৯১৬ ছাড়িয়ে প্রথমবার এক টেস্টে হাজার রানের ঠিকানা স্পর্শ করে ভারত (১০১৪)। প্রথম ইনিংসে ৫৮৭ রানের পর সফরকারীরা এ দিন দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৬ উইকেটে ৪২৭ রানে।
হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ৩৭১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জেতা ইংল্যান্ড এবার দ্বিতীয় ওভারেই হারায় জ্যাক ক্রলিকে। মোহাম্মদ সিরাজকে আলগা শটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২৭ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
বেন ডাকেট ভালো কিছুর ইঙ্গিত দেন পাঁচটি চার মেরে। এরপরই আকাশ দিপের বল স্টাম্পে টেনে আনেন তিনি। প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারানোর ধাক্কা সামলে উঠবে কী, একাদশ ওভারে বিদায় নেন ইংল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসের সফলতম ব্যাটসম্যান জো রুটও। চমৎকার ডেলিভারিতে তাকে বোল্ড করে দেন আকাশ।
শেষ দিনের চ্যালেঞ্জ শুরু করবেন অলিভার পোপ ও হ্যারি ব্রুক।
এর আগে ১ উইকেটে ৬৪ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করে ভারত। কারুন নায়ার থিতু হয়ে ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন আরও একবার (৪৬ বলে ২৬)। আগের দিন ২৮ রানে অপরাজিত লোকেশ রাহুল ফিফটি পূর্ণ করেন ৭৮ বলে। এরপর বেশিক্ষণ টেকেননি তিনি (৮৪ বলে ৫৫)। দারুণ ডেলিভারিতে তাকে বোল্ড করেন জশ টং।
চতুর্থ উইকেটে শতরানের জুটিতে ভারতকে এগিয়ে নেন গিল ও পান্ত। কিপার-ব্যাটসম্যান পান্ত এগিয়ে যান সহজাত ব্যাটিংয়ে, প্রথম চার বলের মধ্যে মারেন একটি করে চার ও ছক্কা।
১০ রানে তিনি জীবন পান জ্যাক ক্রলি ক্যাচ ফেলায়। সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ফিফটি করেন ৪৮ বলে। স্পিনার শোয়েব বাশিরকে ছক্কার চেষ্টায় লং-অফে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার ৮ চার ও ৩ ছক্কায় গড়া ইনিংস।
১১০ রানের জুটি ভাঙার পর গিল আরেকটি শতরানের জুটি গড়েন জাদেজাকে সঙ্গে নিয়ে। ১২৯ বলে শতক পূর্ণ করেন তিনি চা-বিরতির আগের ওভারে।
টেস্ট নেতৃত্বের প্রথম দুই ম্যাচে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি, আর ক্যারিয়ারের অষ্টম।
বিরতি থেকে ফিরে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান গিল। ক্রিস ওকসের টানা তিন বলে মারেন দুটি চার ও একটি ছক্কা। পরপর ছক্কা মারেন রুটকে। রুটের পরের ওভারে আরেকটি ছক্কায় দেড়শ পূর্ণ করেন ১৫৬ বলে।
পরের ওভারে বশিরকে আরেকটি ছক্কার পর শেষ হয় তার রেকর্ড গড়া ইনিংসটি। জাদেজার সঙ্গে তার জুটিতে আসে ১৭৫ রান।
পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে এক টেস্টে চারটি শতরানের জুটির সঙ্গী হলেন গিল।
সাত নম্বরে নেমে নিতিশ কুমার রেড্ডি টিকতে পারেন কেবল দুই বল। ওয়াশিংটন সুন্দারের একটি করে চার ও ছক্কায় লিড ছয়শ ছাড়ানোর পর ইনিংস ঘোষণা করে ভারত।
পরে বোলিংয়েও শুরুটা ভালো হলো জাসপ্রিত বুমরাহকে বিশ্রাম দিয়ে এই ম্যাচে নামা সফরকারীদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত ১ম ইনিংস: ৫৮৭
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৪০৭
ভারত ২য় ইনিংস: (আগের দিন ৬৪/১) ৮৩ ওভারে ৪২৭/৬ ডিক্লে. (রাহুল ৫৫, কারুন ২৬, গিল ১৬১, পান্ত ৬৫, জাদেজা ৬৯*, নিতিশ ১, ওয়াশিংটন ১২*; ওকস ১৪-৩-৬১-০, কার্স ১২-২-৫৬-১, টং ১৫-২-৯৩-২, স্টোকস ৭-১-২৬-০, বাশির ২৬-১-১১৯-২, রুট ৯-১-৬৫-১)
ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৬০৮) ১৬ ওভারে ৭২/৩ (ডাকেট ২৫, ক্রলি ০, পোপ ২৪*, ব্রুক ১৫*; আকাশ ৮-১-৩৬-২, সিরাজ ৫-১-২৯-১, প্রাসিধ ৩-০-৬-০)