ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার একটি দুর্ঘটনার দৃশ্য; ছবিঃ নাইন নিউজ
মেলবোর্ন, ১০ জুলাই-
ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় স্কুল হলিডের সময় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ছয়জন, যার মধ্যে গত শুক্রবার ও শনিবারেই মারা গেছেন পাঁচজন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৭০ বছর বয়সী এক মোটরসাইকেল আরোহী, ৪০ বছর বয়সী এক কোচ চালক, ৫১ বছর বয়সী এক পথচারী, একজন চালক যার গাড়ি গাছে ধাক্কা খেয়েছিল এবং ৬৪ বছর বয়সী এক নারী যাত্রী।
চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১০৩-এ পৌঁছেছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ হিসেবে ধরা হচ্ছে। রাজ্য পুলিশ ও সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, দুর্ঘটনার মূল কারণগুলোর মধ্যে আছে গতি সীমা অমান্য, সিটবেল্ট না বাঁধা, ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব, মাদক বা অ্যালকোহল সেবন এবং চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার।
সড়ক নিরাপত্তা কমিশনার আদ্রিয়ান ওয়ার্নার ও পুলিশের কর্মকর্তা মাইক পিটারস বলছেন, এই মৃত্যু যদি অন্তত মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে পারে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। তারা জানিয়েছেন, স্কুল হলিডের বাকি সময় জুড়ে ‘বুজ বাস’, মোবাইল ক্যামেরা এবং রোডপুলিশের বাড়তি টহল চালু থাকবে যাতে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এদিকে দুর্ঘটনা ঠেকাতে এআই-ভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা গাড়ি চালানোর সময় ফোনে কথা বলা বা অন্যান্য অনিয়ম শনাক্ত করবে। যদিও এই মুহূর্তে শুধুমাত্র সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে, তবে আসছে অক্টোবর থেকে এসব অপরাধের জন্য জরিমানা করা শুরু হবে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসংখ্যা ও গাড়ির সংখ্যা বাড়লেও দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির হার দীর্ঘদিন ধরেই স্থির রয়েছে, যা উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি সামাল দিতে শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে চালকদের দায়িত্বশীল হতে হবে বলেও মত দিয়েছেন তারা।
স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বলছে, বিশেষ করে স্কুল হলিডের মতো সময়গুলোতে চালকদের আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে এমন দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়ানো যায়।
সুত্রঃ নাইন নিউজ