হাসানের ৭ উইকেটে ওরচেস্টারশায়ারকে হারাল কেন্ট
ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে কেন্টকে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট…
মেলবোর্ন, ১০ জুলাই-
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি করতে চায়। তবে একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। আগামী আগস্ট থেকে ইউরোপীয় পণ্যে ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের নোটিশ দেওয়া হতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারোস সেফচোভিচ জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে কাঠামোগত অগ্রগতি হচ্ছে এবং একটি চুক্তির সম্ভাবনা বাস্তব। ইইউ আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা যাবে এবং সম্ভাব্য শুল্ক এড়ানো সম্ভব হবে।
তবে এই আলোচনার মধ্যেই হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপ থেকে আমদানি করা বিলাসবহুল ভোগ্যপণ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল সামগ্রী, সেমিকন্ডাক্টর ও তামার মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এদিকে একটি বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে উভয়পক্ষের শুল্ক কমিয়ে আনতে চায়। বিশেষ করে গাড়ি, ইস্পাত, বিমান এবং কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যেন ইউরোপীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করে, সে লক্ষ্যে কাজ করছে ইইউ। তবে ফ্রান্স ও জার্মানিসহ কয়েকটি দেশ ইউরোপীয় শিল্প ও কৃষিখাতের সুরক্ষার বিষয়টি সামনে রেখে দ্রুত কোনো ছাড় না দেওয়ার পক্ষপাতী।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাণিজ্য পরিস্থিতি কিছুটা অস্থির হলেও ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে অল্প ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি না হলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ছাড়াও বিশ্ববাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক ভারসাম্য পুনরায় স্থাপন ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং ইউরোপের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির মধ্যে সমঝোতা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি মূলত “আমেরিকা ফার্স্ট” অর্থনৈতিক দর্শনের অংশ হিসেবে গড়ে ওঠে। ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুল্ক বাড়ানোর পদক্ষেপ নেন।
বিশেষ করে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আরও কয়েকটি দেশের ওপর ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হয়। এর ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়, শুরু হয় বাণিজ্যযুদ্ধ। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক প্রতিযোগিতা হ্রাস করতে এ ধরনের শুল্ক প্রয়োজন।
এই নীতির সমালোচকরা বলেন, শুল্কের কারণে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে গিয়ে ভোক্তাদের ওপর চাপ পড়ে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করত, চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও সুবিধাজনক বাণিজ্য চুক্তি আদায় করা সম্ভব।
২০২৫ সালে ফের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ট্রাম্প একই ধরনের শুল্ক নীতি চালু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদাররা নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং সময়মতো চুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au