রোহিঙ্গা ক্যাম্প; ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ জুলাই-
বাংলাদেশের কক্সবাজারে থাকা প্রায় এক মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য জরুরি তহবিল ও মানবিক সহায়তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR)। প্রয়োজনীয় তহবিলের বড় ঘাটতির কারণে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই স্বাস্থ্য, খাদ্য এবং শিক্ষাসহ মূল সেবা কার্যক্রম স্থগিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (১১ জুলাই) আল জাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জন্য জরুরি তহবিল হিসেবে ২৫৫ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৩৫ শতাংশ অর্থাৎ অল্প কিছু অনুদানই এসেছে। ফলে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে এবং ডিসেম্বরে খাদ্য সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই সেবা বন্ধ হয়ে গেলে শিবিরে থাকা লাখ লাখ মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়বে।
UNHCR-এর মুখপাত্র বাবর বালুচ বলেন, “তহবিলের অভাবে আমরা নতুন করে আসা এবং পুরনো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারছি না। এ অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে।”
শুধু তাই নয়, চলতি বছরে নতুন করে আরও দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে কক্সবাজারের শিবিরে প্রবেশ করেছে। এতে জনসংখ্যার চাপ বেড়েছে এবং খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয় ও শিক্ষাসহ প্রতিটি সেবায় মারাত্মক চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে সামান্যতম ত্রাণ সহায়তাও এখন অনেকের জন্য জীবন-মরণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটও এ সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, ইউক্রেন ও গাজাসহ অন্যান্য বড় আন্তর্জাতিক সংকটে মানবিক সহায়তার অর্থ পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। ফলে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ কমে যাচ্ছে এবং দাতারা অনুদান সরিয়ে নিচ্ছে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বড় অংশ এখন প্রতিরক্ষা খাতে বেশি বরাদ্দ দিচ্ছে, যা সরাসরি এই তহবিল ঘাটতিতে প্রভাব ফেলেছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার আশঙ্কা, তহবিল না এলে শুধু স্বাস্থ্য ও খাদ্য নয়, শিশুদের শিক্ষা, নারীদের জন্য সুরক্ষা সেবা এবং মনোসামাজিক সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যাবে। আর এই সেবাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে শিবিরগুলোতে সহিংসতা, চুরি, মানবপাচার, বাল্যবিবাহ এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাবে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।
বিশ্ববাসীর প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে UNHCR বলছে, দ্রুত প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহ না করলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী সরাসরি জীবন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে এবং এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়বে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনও বলছে, এই দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী সংকট শুধু কক্সবাজার নয়, পুরো দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করছে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের টেকসই সহায়তা ছাড়া পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা খুবই সীমিত।
সুত্রঃ আল জাজিরা