নিহতের মা লাইলী বেগম বারবার বিলাপ করে বলছেন, “তোমরা কেন আমার ছেলেকে মাইরা ফেলাইলা? ও তো কোনো রাজনীতি করত না।” ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই-
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সোহেল মোল্লার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহতের মা লাইলী বেগম বারবার বিলাপ করে বলছেন, “তোমরা কেন আমার ছেলেকে মাইরা ফেলাইলা? ও তো কোনো রাজনীতি করত না।” কান্নার মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। জ্ঞান ফেরার পর আবার কেঁদে ওঠেন, “আমার একটা কবুতর আছিল, তোমরা ওরে নিছ কেন? আমারে মা কইয়া ডাকবে এমন কেউ আর থাকল না।”
সোহেল মোল্লা গোপালগঞ্জের মিয়াপাড়ায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার বয়স ৩০ এর কাছাকাছি। শহরের চৌরঙ্গি এলাকায় কেরামত প্লাজায় তার একটি মোবাইল ফোনের দোকান ছিল। বুধবার (১৬ জুলাই) গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক সমাবেশকে ঘিরে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। নিহতের পরিবার জানায়, সোহেল কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
সোহেলের বাবা ইদ্রিস আলী মোল্লা বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছেন। ছেলের শোকে বারবার বলছেন, “আমার ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলা হলো, কিন্তু সে কী দোষ করেছিল? আমরা এর বিচার চাই।” সোহেলের স্ত্রী নিশিও একইভাবে কাঁদছিলেন। বলছিলেন, “আমার স্বামী রাজনীতি করত না। শুধু সংসার আর দোকান নিয়ে থাকত। দুইটা ছোট সন্তানকে এতিম করে গেল।”
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষের দিন দুপুরে সোহেল তার দোকানে ছিল। পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এরপর হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তার মৃত্যুর পর কোনো ময়নাতদন্ত বা মৃত্যুর সনদও হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়নি। রাতেই লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়, বৃহস্পতিবার সকালে টুঙ্গিপাড়ার নিজ গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
সোহেলের চাচা খলিলুর রহমান মোল্লা বলেন, “সোহেল কারো সঙ্গে ঝামেলায় জড়াত না। কেউ কখনো তাকে খারাপ বলেনি। এমন একটি নিরীহ ছেলেকে কেন হত্যা করা হলো?”
এখন পুরো পরিবার শোকে ভেঙে পড়েছে। দুই শিশু সন্তান বোঝেই না, কেন তাদের বাবা আর ফিরে আসবে না। স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে নিরীহ মানুষের প্রাণ যাওয়ার দায় কেউ এড়াতে পারে না। তারা সোহেলের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।