ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপি
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই-
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শরীরে ধরা পড়েছে বয়সজনিত একটি সাধারণ শিরাজনিত সমস্যা—যার নাম ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি’। তবে এটি বিপজ্জনক নয় বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
সম্প্রতি ট্রাম্পের ফুলে থাকা পা ও ডান হাতে আঘাতের দাগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন উঠেছিল। এসব আলোচনার মধ্যেই হোয়াইট হাউস বৃহস্পতিবার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ডান হাতে রঙ পরিবর্তনের কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত করমর্দনের ফলে টিস্যু ক্ষয় এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে অ্যাসপিরিন সেবন। তিনি আরও জানান, ট্রাম্প নিজেই বিষয়টি স্বচ্ছতার স্বার্থে প্রকাশ করতে বলেছেন।
৭৯ বছর বয়সী ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে দায়িত্ব গ্রহণের রেকর্ড। তার পূর্বসূরি জো বাইডেন দায়িত্ব ছাড়েন ৮২ বছর বয়সে।
ট্রাম্পের চিকিৎসক শন বারবাবেলা জানিয়েছেন, শারীরিক এই সমস্যার পরেও প্রেসিডেন্ট ‘চমৎকার স্বাস্থ্যের’ অধিকারী এবং তাঁর চলাফেরায় কোনো সমস্যা নেই। কিছুদিন আগেই একটি ছবিতে ট্রাম্পকে সুপারম্যানের মতো উপস্থাপন করে তাঁর স্বাস্থ্য ও উদ্যমের প্রশংসা করেছিল তাঁর প্রশাসন।
‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি’ মূলত এমন এক অবস্থা, যেখানে বয়সজনিত কারণে পায়ের শিরাগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে রক্ত স্বাভাবিকভাবে হৃদপানে ফিরে যেতে বাধা পায়। এতে পা ফোলা ও ভারী লাগার অনুভূতি তৈরি হয়। সাধারণত ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে এমন সমস্যা দেখা দেয়।
সম্প্রতি নিউ জার্সিতে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে ট্রাম্পের ফুলে থাকা গোড়ালি ও হাতে আঘাতের দাগ গণমাধ্যম ও জনসাধারণের নজরে আসে। অনেকেই ধারণা করেন, তাঁর ডান হাতের আঘাত মেকআপ দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করা হয়েছিল।
ট্রাম্প বরাবরই নিজের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে দৃঢ় অবস্থান নেন এবং বলেন, তিনি একেবারে ‘চমৎকার স্বাস্থ্য’ নিয়ে কাজ করছেন। তবে এবার তাকেই শারীরিক অবস্থা নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হলো, যা নিয়ে রাজনীতিতেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সুত্রঃ এএফপি