রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক যাত্রার ঘোষণা দেওয়া হয়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৯ জুলাই-
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা শুরু করল মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্টারলিংক। দেশের দুর্গম পাহাড়, চরাঞ্চল বা সীমান্তের ব্রডব্যান্ড-বঞ্চিত এলাকাগুলোর জন্য এটি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং স্টারলিংকের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দল, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার এবং আন্তর্জাতিক কৌশল ও সরকারি সম্পর্ক পরিচালক রিচার্ড গ্রিফিথস।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় স্টারলিংকের কার্যক্রম চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোতে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো।
গত তিন মাস ধরে পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের পর এবার বিটিআরসি থেকে ‘স্যাটেলাইট অপারেটর লাইসেন্স’ এবং ‘রেডিও কমিউনিকেশন অ্যাপারেটার্স লাইসেন্স’ পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক সেবা শুরু করে স্টারলিংক। এই লাইসেন্সগুলোর মেয়াদ ১০ বছর।
গ্রাহকদের সেবা পেতে শুরুতেই প্রাথমিকভাবে ৪২ হাজার টাকা দিয়ে একটি সেটআপ কিট কিনতে হবে। এতে থাকবে স্যাটেলাইট রিসিভার ডিস, রাউটার, পাওয়ার সাপ্লাইসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ। এরপর মাসিক ভিত্তিতে দুটি প্যাকেজের যেকোনো একটি বেছে নেওয়া যাবে।
দুটি প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে:
• স্টারলিংক রেসিডেন্সিয়াল: মাসে ৬ হাজার টাকায় ৩০০ এমবিপিএস পর্যন্ত গতি, আনলিমিটেড ইন্টারনেট।
• স্টারলিংক লাইট: মাসে ৪ হাজার ২০০ টাকায় নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টারলিংকের আগমন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসায়িক সেবা বিস্তারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।