হাসানের ৭ উইকেটে ওরচেস্টারশায়ারকে হারাল কেন্ট
ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে কেন্টকে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট…
মেলবোর্ন, ২১ জুলাই-
উজানে লাগাতার ভারি বর্ষণের প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি হঠাৎ করে দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারীসহ নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে স্বল্পমেয়াদী বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি ৫২ দশমিক ০৮ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপৎসীমার মাত্র ৭ সেন্টিমিটার নিচে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
রংপুরের গঙ্গাচড়ার বাসিন্দা একরামুল হক বলেন, “সকাল থেকেই পানি বাড়ছে, রাতে বন্যা হতে পারে।” একই এলাকার নয়া মিয়ার ভাষায়, “গত রাত থেকেই পানি বাড়তে শুরু করছে, সাতটি ইউনিয়নের নিচু চরাঞ্চলে ইতোমধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে।”
কুড়িগ্রামের চর ভগবতীপুরের বাসিন্দা রশিদ আলী জানালেন, “রাত থেকে পানি বাড়ছে, কিন্তু এখনো কোনো মাইকিং বা সরকারি লোক দেখি নাই।” রাজারহাটের তিস্তা তীরবর্তী বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বললেন, “পানি বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু কোনো আগাম সতর্কতা পাচ্ছি না।”
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, “তিস্তা অববাহিকার রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর নিম্নাঞ্চলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে।” এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল ও মেঘালয়ে টানা বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের রংপুর ও সিলেট বিভাগের নদ-নদীতে পানির প্রবাহ বাড়ছে বলে জানায় পূর্বাভাস কেন্দ্র।
কুড়িগ্রাম পাউবো জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলায় ৪ সেন্টিমিটার, দুধকুমারে ১৮ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রে ২১ সেন্টিমিটার এবং তিস্তায় ১৪ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন জানান, সরকারিভাবে প্রস্তুতি থাকলেও এখনো প্রচারণা শুরু হয়নি। পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেও নদীতে পানি না থাকায় খরার অবস্থা ছিল, এখন হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে পাকা ধান ও সবজির জমি তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
নদীপাড়ের মানুষ এখন প্রশাসনের দিক থেকে আগাম সতর্কতা, ত্রাণ প্রস্তুতি এবং কার্যকর প্রচার প্রচারণার দাবি জানাচ্ছেন, যেন হঠাৎ বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au