গত কয়েকদিন ধরে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে তুরস্কের মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চল। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
মেলবোর্ন, ২৪ জুলাই-
তুরস্কে ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়ে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন বন বিভাগের কর্মী এবং পাঁচজন স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মী। বুধবার (১৭ জুলাই) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় হঠাৎ বাতাসের দিক পরিবর্তন হওয়ায় তারা দাবানলের মধ্যে আটকা পড়ে দগ্ধ হন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৪ জন।
দেশটির কৃষি ও বনমন্ত্রী ইব্রাহিম ইউমাকলি জানান, ২৪ জনের একটি দল আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল। হঠাৎ করেই বাতাস তাদের দিকে আগুন ঠেলে দেয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘বিরগুন’-এর তথ্য অনুযায়ী, পুরো দলটি সেখানেই ‘জীবন্ত দগ্ধ’ হন।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এসকিশেহিরের এমপি নেবি হাতিপোগলু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “এই শোক ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।” রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এক বিবৃতিতে নিহতদের স্মরণ করে বলেন, “আমাদের বন রক্ষায় জীবন উৎসর্গকারী ভাই-বোনদের জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করছি। তাঁদের পরিবার ও জাতির প্রতি রইল আমার আন্তরিক সমবেদনা।”
গত কয়েকদিন ধরেই তুরস্কের মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চল তীব্র গরম ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়েছে। রাজধানী আঙ্কারা ও বাণিজ্যিক নগরী ইস্তাম্বুলের মধ্যবর্তী বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল থেকে দাবানল শুরু হয়ে ছড়িয়ে পড়ে লোকালয়েও। বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী ইউমাকলি সতর্ক করে বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং বাতাস হতে পারে দিক বদলকারী, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। তিনি দেশের ৮৬ মিলিয়ন নাগরিককে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ঘটনার তদন্তে দুটি আলাদা কৌঁসুলিকে দায়িত্ব দিয়েছে তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয়। চলতি বছর দেশটিতে দাবানলে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে ইজমির প্রদেশে এক বৃদ্ধ এবং দুই বনকর্মী দাবানলে প্রাণ হারান।
উচ্চ তাপমাত্রা ও বাতাসের কারণে তুরস্কজুড়ে নতুন নতুন এলাকা এখন দাবানলের ঝুঁকিতে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।
সুত্রঃ আনাদোলু এজেন্সি