শুক্রবার মালদ্বীপে পৌঁছানোর পরপরই প্রধানমন্ত্রী মোদি মালদ্বীপকে ৫৬৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা ঘোষণা করেন। ছবিঃ ডিডব্লিউ
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দিনের সফর শেষে শনিবার মালদ্বীপ ত্যাগ করেছেন। এই সফরে তিনি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রটির সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছেন—যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছিল।
২০২৩ সালে ‘ভারতবিরোধী ও চীনপন্থী’ নির্বাচনী ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু শুরুতেই দেশটিতে থাকা ভারতীয় সামরিক সদস্যদের প্রত্যাহারের দাবি তোলেন এবং তা বাস্তবায়ন করেন। এই ভারতীয় বাহিনী মালদ্বীপে উদ্ধারকারী বিমান পরিচালনায় যুক্ত ছিল।
মুইজ্জুর চীনের প্রতি এই ঝোঁক আরও স্পষ্ট হয়, যখন তিনি প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর করেন বেইজিংয়ে—ভারতের আগে। দিল্লি এই সিদ্ধান্তকে কূটনৈতিক অসম্মান হিসেবে দেখেছিল। জবাবে ভারত নিজ দেশের দক্ষিণ উপকূলে পর্যটন উন্নয়নে মনোযোগ বাড়ায়, যা মালদ্বীপে অনেকেই ধরা নেয় ভারতের ধনী পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মুইজ্জু তার ভারতবিরোধী বক্তব্যে শীতলতা এনেছেন। শুক্রবার এক ভোজসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদির পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “ভারত বহুদিন ধরেই মালদ্বীপের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার।”
মালদ্বীপের ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত উৎসবের সঙ্গে মোদির সফরটি মিলে গেছে। তবে এই সময়ে দেশটির দুর্বল অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।
ভারত কী দিচ্ছে মালদ্বীপকে?
শুক্রবার মালদ্বীপে পৌঁছানোর পরপরই প্রধানমন্ত্রী মোদি মালদ্বীপকে ৫৬৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি আগের একটি ঋণের বার্ষিক পরিশোধের পরিমাণ ৫১ মিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ২৯ মিলিয়নে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত জানান। এছাড়া উভয় দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
“আমরা ভারতের বন্ধুত্বকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করি এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে ভারতের সময়োপযোগী সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞ,” বলেন প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, “মোদির সফর মালদ্বীপ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তৈরি করেছে।”
সফরকালে মোদি ভারতীয় অর্থায়নে নির্মিত কয়েকটি অবকাঠামো প্রকল্প উদ্বোধন করেন, যার মধ্যে রয়েছে মালদ্বীপ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সদরদপ্তর, নতুন সড়ক এবং চার হাজার ইউনিটের একটি আবাসন প্রকল্প।
মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “মালদ্বীপবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষায় ভারত সবসময় পাশে থাকবে। আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে—মানুষে-মানুষে সম্পর্ক, এবং নানা খাতে সহযোগিতার ভিত্তিতে।”
এই খাতগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো ভারত মহাসাগরের বাণিজ্যিক জলপথ। মালদ্বীপের ১,১৯২টি দ্বীপ ৮০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত, যেগুলোর মধ্য দিয়ে অসংখ্য আন্তর্জাতিক শিপিং লেন অতিক্রম করে।
মালদ্বীপের পরিচ্ছন্ন সমুদ্রসৈকত বিলাসবহুল পর্যটনের জন্য সুনাম গড়লেও, এই অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে এখন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার এক কেন্দ্রবিন্দু। এই বাস্তবতায় চীনের প্রভাব হ্রাসে এবং মালদ্বীপকে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে ধরে রাখতে ভারত কৌশলগতভাবে সক্রিয় হয়েছে।
সুত্রঃ ডয়েচে ভেলে